আকাশেও ভারতের দাদাগিরি: ৪৫০ কোটির মহাকাশ স্টেশনের পিছু নিল ভারতীয় স্পাই টেকনোলজি!

ইসরোর (ISRO) সাফল্যের পর এবার ভারতের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিও বিশ্বমঞ্চে ত্রাস সৃষ্টি করছে। আহমেদাবাদ-ভিত্তিক বেসরকারি কোম্পানি ‘আজিস্তা ইন্ডাস্ট্রিজ’ (Azista Industries) মহাকাশে এমন এক অসাধ্য সাধন করেছে, যা চীন এবং পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। এবার মহাকাশ থেকেই শত্রুপক্ষের প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং তাদের উপগ্রহের ওপর ‘স্নুপিং’ বা নজরদারি করা ভারতের জন্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

কী সেই ঐতিহাসিক অর্জন? আজিস্তা ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের ৮০ কেজি ওজনের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ (AFR) ব্যবহার করে পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস (ISS)-এর অত্যন্ত নিখুঁত ছবি তুলেছে। মহাকাশে দ্রুত গতিতে চলমান একটি উপগ্রহ থেকে অন্য একটি উপগ্রহ বা স্টেশনের ছবি তোলা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। আজিস্তা প্রমাণ করেছে যে, ভারতীয় বেসরকারি কোম্পানিগুলি এখন কক্ষপথে থাকা যেকোনো বস্তুকে ট্র্যাক করতে এবং তার ছবি তুলতে সক্ষম।

প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য: গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুটি পৃথক প্রচেষ্টায় এই পরীক্ষা চালানো হয়। প্রথমবার ৩০০ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়বার মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূর থেকে আইএসএস-এর ওপর নজরদারি চালানো হয়। সূর্যের আলো এবং দিগন্তের প্রতিকূল অবস্থান সত্ত্বেও আজিস্তার সেন্সরগুলি ১০০ শতাংশ নির্ভুলতার সাথে লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করেছে। মোট ১৫টি হাই-ডেফিনিশন ফ্রেম ধারণ করা হয়েছে, যা ভারতের দেশীয় অ্যালগরিদম এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।

কেন কাঁপছে চীন-পাকিস্তান? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি মূলত ‘স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়্যারনেস’ (SSA) এবং নজরদারির ক্ষেত্রে গেম-চেঞ্জার। এর মাধ্যমে মহাকাশে শত্রুদেশের ‘স্পাই স্যাটেলাইট’ বা গোপন উপগ্রহের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং সেগুলির হাই-রেজোলিউশন ছবি তুলে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। এটি কেবল বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগতভাবেও ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মহাকাশে ভারতের এই নতুন ‘তৃতীয় চোখ’ এখন চীন ও পাকিস্তানের যেকোনো গোপন চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম।