পাওয়ার পরিবারে কি এবার মিলনের সুর? অজিত দাদার ‘শেষ ইচ্ছা’ ও নেপথ্যের ‘খলনায়ক’ নিয়ে বিস্ফোরক রোহিত!

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নাটকীয়তা যেন শেষ হওয়ার নাম নেই। উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক প্রয়াণের পর পাওয়ার পরিবারের অন্দরের সমীকরণ এখন জনসমক্ষে। একদিকে শরদ পাওয়ার দুই গোষ্ঠী একীভূত করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে অজিত পাওয়ারের বিশ্বস্ত অনুগামীরা এনডিএ জোটে অটুট থাকার লড়াই চালাচ্ছেন। এর মধ্যেই রোহিত পাওয়ারের একটি মন্তব্য আগুনের ঘি ঢেলে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, অজিত দাদার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন কারা?

বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর বারামতীর রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। শরদ পাওয়ার দাবি করেছেন যে, অজিত পাওয়ার নিজেই চেয়েছিলেন এনসিপির দুই গোষ্ঠী যেন আবার এক হয়ে যায় এবং সেই লক্ষ্যে আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। কিন্তু এনসিপি (অজিত গোষ্ঠী) প্রধান সুনীল তাতকারের সাম্প্রতিক অবস্থান এই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাতকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা এনডিএ জোটের সঙ্গেই থাকবেন। তবে রোহিত পাওয়ারের দাবি, পুরো পরিবার এক হোক এটাই ছিল অজিত দাদার শেষ স্বপ্ন।

এই বিতর্কের মধ্যেই সুনীল তাতকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন অজিত-জায় সুনেত্রা পাওয়ার। আগামী সপ্তাহে সুনেত্রা পাওয়ার মুম্বাই ফিরলে তার সাথে একীভূতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তাতকারে বলেন, “অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বে আমরা এনডিএ-তে যোগ দিয়েছিলাম। দল এখন তার রাজনৈতিক পরিবার, তাই কোনো বড় সিদ্ধান্তের আগে আমরা সুনেত্রা পাওয়ারের সাথে আলোচনা করব।” অন্যদিকে, রোহিত পাওয়ারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন যে, অন্য দলের বিষয়ে কথা বলার কোনো অধিকার রোহিতের নেই। পাল্টাও দিয়েছেন রোহিত, তার দাবি, অজিত দাদার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরেই তিনি এসব বলছেন।

এদিকে মহাযুতি জোটের অন্দরেও এই নিয়ে কানাঘুষো চলছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, এমন কোনো একীভূতকরণের কথা থাকলে অজিত পাওয়ার অবশ্যই তাকে জানাতেন। হাসান মুশরিফের মতো মন্ত্রীরা আবার সুনেত্রা পাওয়ার ও পরিবারের সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখছেন। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের কুর্সি ও পাওয়ার পরিবারের উত্তরাধিকার নিয়ে দড়ি টানাটানি এখন তুঙ্গে। ১০ ফেব্রুয়ারির মন্ত্রিসভার বৈঠক ও সুনেত্রা পাওয়ারের দিল্লি সফরই ঠিক করে দেবে এনসিপির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।