মুম্বইয়ে বদলাপুরের ছায়া! ৫ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন, ২০ দিন ধরে ঘটনা ধামাচাপা দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ!

মুম্বইয়ের মালাড এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনা ফের একবার মহারাষ্ট্র তথা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্কুলের এক ৩০ বছর বয়সী পিয়নের বিরুদ্ধে ৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনার ভয়াবহতা আরও বেড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের আচরণে; অভিযোগ উঠেছে যে ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর ২০ দিন ধরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে স্কুল প্রশাসন। বর্তমানে অভিযুক্ত পিয়ন গ্রেফতার হলেও স্কুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পলাতক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১২ জানুয়ারি স্কুল চত্বরের ভেতরেই। নির্যাতিতা শিশুটি বাড়িতে ফিরে তার মায়ের কাছে যন্ত্রণার কথা জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এফআইআর অনুযায়ী, অভিযুক্ত পিয়ন কেবল যৌন নির্যাতনই করেনি, শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে বলেছিল যে কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলা হবে। আতঙ্কিত অভিভাবকরা যখন স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন, তখন তাঁদের সাহায্য করার বদলে উল্টে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, স্কুলের সিইও অভিযুক্তের পরিচয় গোপন রাখেন এবং পুলিশে না যাওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।

শেষ পর্যন্ত কোনও উপায় না দেখে অভিভাবকরা মালাড পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশি অভিযানে অভিযুক্ত পিয়নকে ভিরার থেকে গ্রেফতার করা হয়। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (জোন একাদশ) সন্দীপ যাদব কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, “যেকোনও প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তা অবিলম্বে পুলিশকে জানানো বাধ্যতামূলক। রিপোর্ট করতে দেরি করা এবং অপরাধীকে আড়াল করার অপরাধে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।”

বর্তমানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো (POCSO) আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পকসো আইনের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অপরাধের খবর না জানানোই একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ঘটনাটি ২০২৪ সালের কুখ্যাত বদলাপুর কাণ্ডের স্মৃতি ফের উসকে দিয়েছে। একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের চূড়ান্ত সংবেদনশীলতা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হল। পুলিশ বর্তমানে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অভ্যন্তরীণ নথিপত্র খতিয়ে দেখছে।