SBI লকার থেকে উধাও ২ কোটির সোনা! ১২ বছরের পুরনো গ্রাহক যখন লকার খুললেন, দেখলেন সব সাফ— তুঙ্গে আতঙ্ক

ঘরের থেকে ব্যাংক লকার বেশি নিরাপদ— এই বিশ্বাসেই মানুষ দামী গয়না ব্যাংকে রাখেন। কিন্তু স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র মতো দেশের সবথেকে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের লকার থেকে যদি ২ কোটি টাকার সোনা-রূপো রহস্যময়ভাবে উধাও হয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? ফরিদাবাদের সেক্টর ১৫-এর একটি SBI শাখায় এমনই এক হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও রহস্য: পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডি.সি. গর্গ গত ১২ বছর ধরে ওই শাখায় লকার ব্যবহার করছেন। দু’দিন আগে তাঁর স্ত্রী লকারটি খুলতে গেলে ব্যাংক কর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন যে, ওই নামে কোনো লকারই নেই! অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিয়ম করে প্রতি বছর লকারের ভাড়া বাবদ ২,৩৬০ টাকা তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। যখন গর্গ লকারের আসল চাবি দেখান, তখন ব্যাংক আধিকারিকরা দাবি করেন যে, ওই লকারটি নাকি ইতিমধ্যেই অন্য কাউকে (বিকাশ চৌহান নামে এক ব্যক্তিকে) দিয়ে দেওয়া হয়েছে!
ব্যাংক কর্মীদের দিকে সন্দেহের আঙুল: অভিযোগ উঠেছে যে, ব্যাংক কর্মীদের যোগসাজশেই লকারটি ভেঙে ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করে অন্য কাউকে অ্যালট করা হয়েছে। ডি.সি. গর্গের দাবি, লকারে প্রায় ১.২৫ কেজি সোনার বিস্কুট, ৩ কেজি রূপো এবং প্রচুর দামী গয়না ছিল। অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি, গ্রাহক নিজেই নাকি আগে লকার খালি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রাহকের প্রশ্ন— “যদি লকার খালিই করে দেব, তবে আসল চাবি আর নথিপত্র আমার কাছে কেন? আর কেনই বা ব্যাংক লকারের ভাড়া কেটে যাচ্ছিল?”
আইনি পদক্ষেপ: এই ঘটনায় জেলা উপভোক্তা ফোরামের প্রাক্তন সদস্য সতীশ মিত্তাল ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। ইতিমধ্য়েই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি SBI-এর চেয়ারম্যান ও হেড অফিসে জানানো হয়েছে। আপাতত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত করছেন।