সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের দিন শেষ? জোহো প্রধান শ্রীধর ভেম্বুর একটি পোস্টে তোলপাড় আইটি দুনিয়া!

সফটওয়্যার জগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় তুলেছেন ‘জোহো’ (Zoho) প্রধান শ্রীধর ভেম্বু। তাঁর মতে, কোড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর অগ্রগতি এতই দ্রুত যে, এখন থেকে প্রোগ্রামারদের বিকল্প জীবিকার কথা ভাবা শুরু করা উচিত।

আজ সকালে এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে ভেম্বু লেখেন, AI-এর মাধ্যমে কোডিংয়ের উৎপাদনশীলতা এখন আকাশছোঁয়া। তিনি উদাহরণ হিসেবে এনথ্রোপিক-এর (Anthropic) সাম্প্রতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তাদের ‘ক্লদ এআই’ (Claude AI) দিয়ে আস্ত একটি সি-কম্পাইলার (C-compiler) তৈরি করা হয়েছে—যা অত্যন্ত জটিল একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ।

ভেম্বু সরাসরি বলেন, “আমরা যারা কোডিং লিখে জীবিকা নির্বাহ করি, তাদের এখন বিকল্প পথ খোঁজা উচিত। আমি নিজেকেও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করছি। আমি কোনো আতঙ্ক থেকে নয়, বরং বাস্তবতাকে শান্তভাবে মেনে নিয়ে এবং একে আলিঙ্গন করেই এই কথা বলছি।”

তিনি জানান, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ওপর AI-এর প্রভাব নিয়ে তিনি দীর্ঘক্ষণ গুগলের ‘জেমিনি প্রজেক্ট’-এর সাথে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ পৃথিবী দুটি দিকে যেতে পারে। একদিকে যেমন প্রযুক্তি আমাদের জীবনের পটভূমিতে চলে যাবে (ঠিক যেমন ডিজিটাল ঘড়ি), তখন মানুষ পরিবার, প্রকৃতি, শিল্প, সংগীত এবং সংস্কৃতির ওপর বেশি জোর দেবে। ভেম্বু নিজেও বর্তমানে একটি গ্রামীণ ও প্রকৃতিঘনিষ্ঠ জীবনযাপন করছেন। তবে অন্যদিকে, প্রযুক্তির ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ’ বা সেন্ট্রালাইজড কন্ট্রোল নিয়ে একটি অন্ধকার সম্ভাবনার কথাও তিনি উসকে দিয়েছেন।

বেঙ্গালুরুর এক তরুণ ডেভেলপার এই প্রসঙ্গে রসিকতা করে বলেন, “কোডিং ভালোবাসি ঠিকই, তবে সাবধানতার খাতিরে এখন প্রোডাক্ট ডিজাইনও শিখছি।” শ্রীধর ভেম্বুর এই পোস্ট আসলে কোডারদের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে এমন এক ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে বলছে, যেখানে শুধু কোড লিখতে জানাই হয়তো আর অর্থ উপার্জনের প্রধান চাবিকাঠি থাকবে না।