“আয়না দেখলে সত্যিটা লুকোবে কোথায়?” রাজ্যসভায় মোদীর শায়েরিতে কুপোকাত বিরোধীরা

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে এক অন্য মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কখনো শায়েরি, কখনো আবার তীক্ষ্ণ শ্লেষে বিদ্ধ করলেন বিরোধী শিবিরকে। বিশেষ করে আম আদমি পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে। আপ-এর প্রতি আক্রমণ শানিয়ে মোদী বলেন, “যাদের পুরো সরকার মদে ডুবে রয়েছে, তারা বড় বড় কথা বলছে।” এরপরই বিরোধীদের একহাত নিয়ে তাঁর কাব্যিক খোঁচা— “কতদিন আর দুনিয়াকে ধোঁকা দেবে? একবার আয়না দেখলে নিজের সত্যিটা লুকোবে কোথায়?”
প্রধানমন্ত্রী এদিন ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা থাকলেও ভারত এখন ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের ৯টি বড় শক্তির সাথে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমাদের যুবকদের জন্য বিশ্বের বাজার খুলে গেছে।” তবে এই সাফল্যের মাঝেও বিরোধীদের নেতিবাচক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, সংসদের আলোচনার মান আরও উন্নত হওয়া উচিত ছিল, যা বিরোধীরা নষ্ট করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিজেদের ‘রাজা’ বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন, তারা আজ আর্থিক বৈষম্য নিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে আদালতে শক্তি খরচ করছে রাজ্য সরকার। এই অনুপ্রবেশকারীরাই আদিবাসীদের জমি ও যুবকদের রুজি-রুটি কেড়ে নিচ্ছে। বাম, ডিএমকে এবং কংগ্রেসকেও একাসনে বসিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এই দলগুলি দশকের পর দশক ক্ষমতায় থাকলেও সাধারণ মানুষের উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের পকেট ভরাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। মোদীর এই ‘শায়েরি-অ্যাটাক’ রাজ্যসভায় শাসক শিবিরের টেবিল চাপড়ানো হাততালিতে বারবার মুখরিত হয়।