“খাড়গেজি বুড়ো হয়েছেন, ওনাকে বসেই স্লোগান দিতে দিন!” রাজ্যসভায় মোদীর খোঁচায় হাসির রোল

রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন বিরোধী সাংসদদের প্রবল স্লোগান ও হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ কক্ষ। ‘একনায়কতন্ত্র চলবে না’ এবং রাহুল গান্ধীকে লোকসভায় বলতে দেওয়ার দাবিতে সরব হন বিরোধীরা। এই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে তীব্র কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিরোধী সাংসদদের চিৎকারে যখন প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠস্বর প্রায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই মোদী হালকা মেজাজে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “খাড়গেজির বয়স হয়েছে। আমি অনুরোধ করব, ওনার বয়সের কথা বিবেচনা করে ওনাকে বসেই স্লোগান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে ওনার কোনও শারীরিক অসুবিধা না হয়।” মোদী আরও যোগ করেন, “খাড়গেজির পিছনে অনেক তরুণ সাংসদ দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁরা স্লোগান দিন। কিন্তু খাড়গেজিকে বসে স্লোগান দেওয়ার সুবিধা করে দেওয়া উচিত।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে বিজেপি শিবিরে হাসির রোল ওঠে।
বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী এই ঘটনার প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংযম এবং গণতান্ত্রিক পরিপক্কতা বজায় রাখতে হয়। প্রসঙ্গত, আগের দিন লোকসভাতেও বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। বুধবার রাজ্যসভাতেও সেই একই রণকৌশল নেয় বিরোধীরা। রাহুল গান্ধীকে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার অভিযোগে সরব হন তাঁরা। তবে খাড়গেকে নিয়ে মোদীর এই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ‘রসিকতা’ নিয়ে ইতিমদ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।