মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে বিভীষিকা: গ্যাস ট্যাঙ্কার উল্টে ১২ ঘণ্টা স্তব্ধ মহাসড়ক, আটকে হাজারো মানুষ!

মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া নজিরবিহীন যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে মহারাষ্ট্রের লাইফলাইন। খাণ্ডালা ঘাটের আদোশি টানেলের কাছে একটি প্রোপিলিন গ্যাস বোঝাই ট্যাঙ্কার উল্টে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি। গত ১২ ঘণ্টা ধরে কয়েক কিলোমিটার লম্বা যানজটে আটকে আছেন হাজার হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই রুট এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দিয়েছে হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা: মঙ্গলবার বিকেল ৫টা নাগাদ দ্রুতগামী ওই গ্যাস ট্যাঙ্কারটি ঢালু পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ট্যাঙ্কারটিতে অত্যন্ত দাহ্য প্রোপিলিন গ্যাস ছিল, যা দুর্ঘটনার পরপরই লিক হতে শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কায় পুলিশ তৎক্ষণাৎ মুম্বাই অভিমুখী লেনটি বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তার খাতিরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও গ্যাস লিকেজ বন্ধ না হওয়ায় স্বাভাবিক হয়নি যান চলাচল।
যাত্রীদের চরম ভোগান্তি: রাতভর এক্সপ্রেসওয়েতে আটকে থাকা যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ছিল বীভৎস। খাবার, জল কিংবা শৌচাগারের ন্যূনতম সুবিধা ছাড়াই কনকনে ঠান্ডায় মহিলারা ও শিশুরা গাড়ির ভেতরেই রাত কাটাতে বাধ্য হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অনেক যাত্রী এই এক্সপ্রেসওয়েকে ‘বিশাল বড় পার্কিং লট’ বলে কটাক্ষ করেছেন। কেউ আন্ধেরি থেকে পুনে পৌঁছাতে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় নিয়েছেন, আবার কেউ সাহায্যের জন্য মরিয়া হয়ে এক্স-এ (টুইটার) পোস্ট করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি: হাইওয়ে কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। মুম্বাইগামী যান চলাচল এখনও ব্যাহত। পুলিশ ও এমএসআরডিসি (MSRDC) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, খুব জরুরি প্রয়োজন না থাকলে আজ এই রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করাই শ্রেয়।