মধ্যরাতে রণক্ষেত্র কেশপুর! রক্তাক্ত ১৮ বিজেপি কর্মী, পুলিশ সুপারের দপ্তরে তুুমুল বিক্ষোভ

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। মঙ্গলবার রাতে ‘বুথ বিজয় সংকল্প অভিযান’ কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপর ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অন্তত ১৮ থেকে ২০ জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ, আনন্দপুর সাত নম্বর রাম কাটা অঞ্চলে দলীয় বৈঠক শেষে কর্মীরা যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বাঁশ ও লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর করা হয় একাধিক বাইক ও গাড়ি। ঘটনার পর বিজেপি নেতৃত্ব আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অসহযোগিতা করে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশ সুপারের (SP) দপ্তরের সামনে অবস্থানে বসেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই বিক্ষোভ।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও কর্মীদের মনোবল বাড়াতে আসরে নামেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে জেলা সভাপতি তন্ময় দাস ও অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। শুভেন্দু নির্দেশ দেন, আহতদের দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে এবং অনলাইনের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে।

বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সুকেশ সরেন তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৃণমূল যেভাবে আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, ২০২৬ সালের পর এই ঋণের কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিজেপির লোকেরাই মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে এবং এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগ নেই। এই মুহূর্তে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।