রুপোর বাজারে মহাধস! আকাশছোঁয়া দামের পর হু হু করে কমছে রেট, বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত না কি নতুন সুযোগ?

গত এক বছর ধরে আকাশছোঁয়া রিটার্ন দেওয়ার পর অবশেষে বড়সড় ধাক্কা খেল রুপোর বাজার। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষে রেকর্ড উচ্চতা থেকে রুপোর দাম প্রায় ২৭% এবং সোনার দাম ৯% হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত দুটি ট্রেডিং সেশনে যে পরিমাণ পতন দেখা গেছে, তাতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারী মহলে। শুক্রবার রুপোর দাম আউন্স প্রতি ৮৪ ডলারে নেমে এসেছে এবং সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৮৬৫ ডলারে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বড় সিদ্ধান্ত। ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনীত করার পর সুদের হারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুগুলিতে। তথ্য বলছে, রুপোর বার্ষিক অস্থিরতা (Volatility) ৩৬%, যা সোনার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর পতনও অত্যন্ত তীব্র হয়। বর্তমানে ‘সোনা-রুপো অনুপাত’ (Gold-Silver Ratio) ৫৭-এ পৌঁছেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রুপোর দামের বড় ধরনের সংশোধন বা ‘কারেকশন’ এখনও বাকি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি এই পতন অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে রুপোর দাম প্রতি আউন্স ৫০ ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ টাকা) নেমে আসতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— সব টাকা রুপোতে না রেখে কিছু অংশ সোনায় সরিয়ে নেওয়া এবং ধৈর্য ধরা।