নাগপুরে থমকে যাবে উন্নয়ন? ১৫ বিধায়কের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৪৫ কোটি, ক্ষোভে ফুঁসছেন জনপ্রতিনিধিরা

২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৪ মাস। অবশেষে নাগপুর জেলার ১৫ জন বিধায়কের (১২ জন বিধানসভা ও ৩ জন বিধান পরিষদ সদস্য) জন্য বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল বা MLA Fund মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার। তবে খুশির চেয়ে জেলাজুড়ে অসন্তোষই বেশি, কারণ বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
হিসাবের গরমিল: প্রত্যাশা ৫ কোটি, প্রাপ্তি ৩ কোটি
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় উন্নয়নের জন্য একজন বিধায়ক বছরে ৫ কোটি টাকা পেয়ে থাকেন। কিন্তু রাজ্য পরিকল্পনা বিভাগ নাগপুর জেলার ১৫ জন বিধায়কের জন্য মোট ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অর্থাৎ, মাথাপিছু মিলছে মাত্র ৩ কোটি টাকা।
[Image: Construction work halted in Nagpur / Devendra Fadnavis and local MLAs in a discussion]
যেখানে প্রভাব পড়বে সবথেকে বেশি:
এই তহবিল সাধারণত গ্রামের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানীয় জলের সরবরাহ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্ট্রিট লাইটের মতো ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হয়। জেলা পরিকল্পনা বিভাগের মাধ্যমে এই কাজগুলো অনুমোদিত হয়। ১৪ মাস ধরে তহবিল না পাওয়ায় ইতিমধ্যেই অনেক কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। এখন অপ্রতুল বরাদ্দের ফলে যে সমস্যাগুলো দেখা দেবে:
-
রাস্তা ও ড্রেনেজ: বর্ষার আগে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা।
-
জনপরিষেবা: কমিউনিটি সেন্টার বা ছোট ব্রিজ তৈরির মতো নতুন প্রকল্প শুরু করা কঠিন হবে।
-
রাজনৈতিক অস্বস্তি: এই বরাদ্দের তালিকায় স্বয়ং উপ-মুখ্যমন্ত্রী (তথা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী) দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের দক্ষিণ-পশ্চিম নাগপুর কেন্দ্রটিও রয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
পুণের সাথে বৈষম্যের অভিযোগ?
রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য সরকার পুণে জেলা বাদে বাকি মহারাষ্ট্রের জন্য মোট ১,৩৫৪ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। নাগপুরের বিধায়কদের দাবি, জেলার জনসংখ্যা এবং আয়তন অনুযায়ী এই ৪৫ কোটি টাকা ‘সমুদ্রে এক ফোঁটা জলের মতো’।
বিধায়করা এই ‘অপ্রতুল’ তহবিলের প্রতিবাদে সরকারের উচ্চপর্যায়ে দরবার করার কথা ভাবছেন। যদি দ্রুত অতিরিক্ত বরাদ্দ না আসে, তবে নাগপুরের স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বড়সড় ধাক্কা খাবে।