পিএসও বিদীপ যাদব: অজিত পওয়ারের সেই ছায়াসঙ্গী, যাঁর অকাল মৃত্যুতে নিভে গেল একটি পরিবারের সব আলো

মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় কেবল এক রাজনৈতিক নক্ষত্রের পতন ঘটেনি, বরং নিভে গিয়েছে আরও চারটি প্রাণপ্রদীপ। সেই তালিকায় রয়েছেন অজিত পওয়ারের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত দেহরক্ষী তথা মুম্বাই পুলিশের গর্ব বিদীপ যাদব। বারামতীর রানওয়েতে বিমানটি আছড়ে পড়ার সময় তিনি ছিলেন পওয়ারের ছায়াসঙ্গী। এই অকাল প্রয়াণে বিদীপের থানের বাড়িতে এখন শোকের মাতম।

পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও সংগ্রাম: বিদীপ যাদব মুম্বাই পুলিশের একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ অফিসার ছিলেন। তাঁর বাবা দিলীপ যাদব দাদরের একটি স্কুল থেকে করণিক হিসেবে অবসর নিয়েছেন এবং মা সন্ধ্যা যাদব বর্তমানে একটি হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত। বিদীপের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর দুই নাবালক সন্তান— ৮ বছরের নেত্রা এবং ৪ বছরের অদ্বিতীয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনককারী এবং স্তম্ভকে হারিয়ে দিশেহারা গোটা পরিবার।

দেশের সেবা করার স্বপ্ন: ছোটবেলা থেকেই বিদীপের স্বপ্ন ছিল উর্দির মান রক্ষা করা। ২০০৯ সালে তিনি মুম্বাই পুলিশে যোগ দেন। তাঁর নিষ্ঠা ও সাহসিকতার জন্যই তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিদীপ তাঁর পরিবারের জন্য কেবল একজন সদস্য ছিলেন না, ছিলেন অনুপ্রেরণা। তাঁকে দেখেই তাঁর ভাইও পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। আত্মীয়-স্বজনরা জানাচ্ছেন, বিদীপ সবসময় চাইতেন বড় পরিবার যেন সব উৎসবে একসাথে থাকে, কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সব আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সেই অভিশপ্ত সকাল: ২৮শে জানুয়ারি সকালে মুম্বাই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে কুয়াশার কারণে লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের অদূরে আছড়ে পড়ে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন থেকে কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অজিত পওয়ারের সাথে বিদীপ যাদবও বিলীন হয়ে গেলেন ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে। মহারাষ্ট্র সরকার ইতিমধ্যে রাজ্যে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে, তবে বিদীপের পরিবারের এই ব্যক্তিগত ক্ষতি কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।