ডিএনএ রিপোর্টেই মিলল মুক্তি! ৩ বছর পর ভীমতাল ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত যুবক

নৈনিতালের ভীমতাল এলাকায় ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া এক চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় বড়সড় মোড় এল। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর জেল খাটার পর অবশেষে ডিএনএ (DNA) রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেলেন এক যুবক। হলদোয়ানি পকসো (POCSO) আদালতের বিশেষ বিচারক মনমোহন সিং এই রায় দিয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, নির্যাতিতার সন্তানের জন্মদাতা পিতা ওই অভিযুক্ত যুবক নন।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯ মে, ২০২৩। ভীমতাল থানা এলাকায় এক ১৫ বছরের কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এবং পরবর্তীতে এক সন্তানের জন্ম দিলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কিশোরীর ভাই স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ পকসো আইনে মামলা রুজু করে যুবককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। আদালতে বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ আটজন সাক্ষীকে হাজির করে। যদিও পরিবারের সদস্যরা বয়ান বদল করেছিলেন, তবে নির্যাতিতা কিশোরী বারবার দাবি করেছিলেন যে অভিযুক্ত যুবকই তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং শিশুটি তাঁরই।
আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী লোকেশ রাজ চৌধুরী বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর জোর দিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানান। আদালত অভিযুক্ত, নির্যাতিতা এবং নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, কিশোরী শিশুটির জৈবিক মা হলেও অভিযুক্ত যুবক কোনোভাবেই শিশুটির জৈবিক পিতা নন। এই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই রায়ের পর ওই যুবক জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন, যা আবারও প্রমাণ করল যে বিচার ব্যবস্থায় ডিএনএ-র মতো ফরেনসিক পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।