‘৭৩-এ পা দেওয়ার আগেই সব বলে দিলাম!’ বইমেলায় আত্মজীবনী প্রকাশ করে বিস্ফোরক অঞ্জন দত্ত

কলকাতা বইমেলা মানেই নতুন বইয়ের গন্ধ আর প্রিয় লেখকের কলমকে ছুঁয়ে দেখা। ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় শুক্রবার ছিল তেমনই এক তারকাসমৃদ্ধ দিন। সল্টলেকের করুণাময়ী প্রাঙ্গণে এদিন ভিড় জমিয়েছিলেন অঞ্জন দত্ত থেকে শুরু করে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের মতো সৃজনশীল জগতের নক্ষত্ররা। তবে এবার চেনা ছক ভেঙে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অঞ্জন দত্তকে পেল পাঠক।
অঞ্জনের আত্মকথন: এতদিন বইমেলায় অঞ্জন দত্তর ভক্তরা ভিড় করতেন তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা গল্পের জন্য। কিন্তু এবার অঞ্জন লিখলেন তাঁর নিজের যাপনের কথা। দে’জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হলো তাঁর আত্মজীবনী ‘অঞ্জন নিয়ে’। বয়স এখন ৭২, পা দেবেন ৭৩-এ। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে অঞ্জন দত্ত বলেন, “বহুদিন ধরেই প্রকাশক বলছিলেন লেখার কথা। এখন মনে হলো আর দেরি করা ঠিক হবে না। বয়স বেড়ে গেলে স্মৃতি ফিকে হয়ে যেতে পারে। তাই আমার জীবনের চড়াই-উতরাই সবটা এই স্মৃতিচারণায় লিখে ফেললাম।”
অনির্বাণের উপলব্ধি: এদিন একই মঞ্চ থেকে প্রকাশিত হলো বর্তমান প্রজন্মের হার্টথ্রব অনির্বাণ ভট্টাচার্যের বই ‘কারুবাসনা’। ২০১৩ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ ১২ বছরের বিভিন্ন উপলব্ধি, সমাজ দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আর নিজস্ব ভাবনার নির্যাস তিনি মেলে ধরেছেন এই বইয়ের পাতায়। অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের উপস্থিতিতে অনির্বাণ জানান, তাঁর অভিজ্ঞতার অর্থপূর্ণ শব্দগুলোই তিনি পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছেন। শুধু গদ্য নয়, অনির্বাণকে আগামীতে কবিতার বই লেখার জন্য আবদারও করেন ঋদ্ধি।
চিকিৎসকের কলমে ‘মস্তিষ্কের ঝরাপাতা’: অন্যান্য প্যাভিলিয়নের ভিড় থেকে একটু দূরে লালমাটি প্রকাশনীতে এক বিশেষ বই নিয়ে হাজির হলেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর লেখা ‘মস্তিষ্কের ঝরাপাতা’ বইটির বিষয়বস্তু বর্তমান সময়ের এক ভয়াবহ সমস্যা—‘ডিমেনশিয়া’। ভুলে যাওয়ার এই মারণ রোগ কীভাবে একটি সাজানো পরিবারকে এলোমেলো করে দেয় এবং এই রোগের মোকাবিলা করার উপায় কী, তা গল্পের ছলে এই বইতে তুলে ধরেছেন তিনি। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ডিমেনশিয়া যেভাবে ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে, তাকে রুখতেই এই সচেতনতামূলক প্রয়াস।
🔹 Hindi Version: