ভোটার কার্ডের নোটিশ আনতে গিয়ে মৃত্যু! মাথাভাঙায় শোরগোল, কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) নোটিশকে কেন্দ্র করে এবার মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল কোচবিহারের মাথাভাঙা। নোটিশ সংগ্রহ করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো ৬৫ বছরের রহমান বস্তাদারের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারডুবির খাটেরবাড়ি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনীতির পারদ চড়িয়ে এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি-কে দায়ী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কী ঘটেছিল? পরিবার সূত্রে খবর, রহমান বস্তাদারের ছেলের নামে নাম বিভ্রাট সংক্রান্ত একটি নোটিশ এসেছিল। শনিবার সকালে সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও চিনুমুনি মণ্ডল রায়ের বাড়িতে সেই নোটিশ আনতে গিয়েছিলেন রহমান। পরিবারের দাবি, নোটিশের খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। বিএলও-র বাড়িতে গিয়ে নোটিশ নেওয়ার সময়ই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অত্যাধিক আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: ঘটনার খবর পেয়েই রহমানের বাড়িতে পৌঁছান তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতা সাবলু বর্মন ও স্বপন বর্মনের অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি যৌথভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এই মৃত্যুর দায় কমিশনকেই নিতে হবে।” অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মনোজ ঘোষ পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে। রোহিঙ্গা ও ভুয়ো ভোটার বাদ যাওয়ার ভয়েই এখন ওরা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। নির্বাচন কমিশন শুধু ভুল সংশোধন করছে।”
উত্তপ্ত কোচবিহার: উল্লেখ্য, ওই একই বুথে আগেই জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল। এবার নোটিশ নিতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ঘি পড়ল আগুনে। সারা রাজ্যেই এখন এসআইআর এবং ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারদের নোটিশ দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। মাথাভাঙার এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।