উত্তরপ্রদেশে ‘হনুমান রাজ’! ১ বছরে ১০,০০০-এর বেশি হামলা, ত্রাহি ত্রাহি রব আমজনতার

উত্তরপ্রদেশের রাজপথ থেকে অলিগলি—এখন সর্বত্রই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হনুমানের দল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২০২৫ সালে রাজ্যে বাঁদরের হামলার ১০,৮০০-এরও বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ ও প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে এবার নড়েচড়ে বসেছে যোগী সরকার। ইলাহাবাদ হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর, বাঁদর ধরার এবং তাদের পুনর্বাসনের যাবতীয় দায়িত্ব এখন থেকে বন দফতরের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
সংখ্যার ভয়াবহতা ও মানুষের ভোগান্তি: রাজ্যের মথুরা, চিত্রকূট, লখনউ এবং অযোধ্যার মতো ধর্মীয় ও পর্যটন শহরগুলিতে বাঁদরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র মন্দির চত্বরেই নয়, এখন বসতবাড়ির ভেতর ঢুকে ফ্রিজ থেকে খাবার চুরি, ছোট শিশুদের ওপর হামলা এবং পথচারীদের কামড়ে দেওয়ার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে ১০,৮০০-এর বেশি অভিযোগ জমা পড়ায় প্রশাসন রীতিমতো চিন্তিত।
হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ ও সরকারি সিদ্ধান্ত: দীর্ঘদিন ধরে পুরসভা এবং বন দফতরের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। অবশেষে ইলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হবে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুরসভাগুলি কেবলমাত্র আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করবে, কিন্তু বাঁদর ধরা, তাদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থানান্তর এবং জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার মূল কাজটি করবে বন দফতর।
আগামী পদক্ষেপ: প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁদরদের শান্ত রাখতে এবং তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে বিশেষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মী নিয়োগ করা হবে। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের চশমা ও ব্যাগ সামলে রাখার জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ সতর্কবার্তা ও পোস্টার লাগানো হয়েছে।