গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের মাস্টারপ্ল্যান! মোদিকে বড় প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের, ভারতের হাতে কি বিশ্ব শান্তির চাবিকাঠি?

গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত মানচিত্র বদলে দিতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ পরবর্তী গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের লক্ষে তিনি গঠন করেছেন ‘গাজা শান্তি বোর্ড’ (Gaza Peace Board)। আর এই হাই-প্রোফাইল বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। ভারত যদি এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকার পরেই ভারতের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

ট্রাম্পের গাজা শান্তি বোর্ড কী? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তি প্রক্রিয়া তদারকি করবে এই বোর্ড। প্রায় ৬০ জন সদস্যকে নিয়ে এই আন্তর্জাতিক প্যানেলটি গঠিত হতে চলেছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্প এই বোর্ডে জর্ডান, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানালেও রাশিয়া ও চীনকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখেছেন। এখানেই ভারতের গুরুত্ব সবথেকে বেশি।

আমেরিকার পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি কি ভারত? যদি ভারত সরকার এই বোর্ডে যোগ দেয়, তবে দুটি বিশেষ দিক উন্মোচিত হবে। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারতই হবে সেই দেশ যার বংশোদ্ভূত সদস্যরা বোর্ডে সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলবেন। ইতিমধেই বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বঙ্গ এই বোর্ডের সদস্য মনোনীত হয়েছেন। ভারত যোগ দিলে দিল্লির প্রতিনিধিত্ব বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। দ্বিতীয়ত, চীন ও রাশিয়াকে বাদ দিয়ে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো এটাই প্রমাণ করে যে, ট্রাম্পের ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায়’ (New World Order) ভারত এক অপরিহার্য স্তম্ভ।

কে এই অজয় বঙ্গ? বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রধান অজয় বঙ্গকে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই গাজা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। পুনেতে জন্মগ্রহণকারী বঙ্গ সেন্ট স্টিফেনস কলেজ ও আইআইএম আহমেদাবাদের প্রাক্তনী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মকর্তার পুত্র বঙ্গ বর্তমানে মার্কিন নাগরিক হলেও তাঁর নাড়ির টান ভারতের সঙ্গেই। মোদি সরকার বোর্ডে যোগ দিলে অজয় বঙ্গ ও ভারতের প্রতিনিধিরা মিলে গাজার ভোল বদলে দিতে বড় ভূমিকা নেবেন।

ভারতের প্রতিক্রিয়া: সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে ভারত। যদিও নয়াদিল্লি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সবুজ সংকেত দেয়নি, তবে আন্তর্জাতিক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বজায় রাখতে এই বোর্ডে যোগদান মোদি সরকারের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে।