বিয়ের আনন্দ নিমেষেই শ্মশান! ঝাড়খণ্ডে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃত ৯, রক্তাক্ত উপত্যকা

উৎসবের আলো নিভে গেল এক লহমায়। বিয়ের সানাইয়ের সুর বদলে গেল স্বজন হারানোর আর্তনাদে। ছত্তিশগড় থেকে ঝাড়খণ্ডগামী একটি বিয়ের বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় প্রাণ হারালেন অন্তত ৯ জন যাত্রী। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। সোমবার সকালে ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার মহুয়াদন্ড থানা এলাকার ওরসা উপত্যকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরণ: সূত্রের খবর, ছত্তিশগড়ের বলরামপুর জেলার পিপারসোট গ্রাম থেকে একটি বাসে করে প্রায় ৯০ জন যাত্রী ঝাড়খণ্ডের লাতেহারের লোধ গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। বাসটি যখন ওরসা উপত্যকার দুর্গম পথ অতিক্রম করছিল, তখনই চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি দ্রুত গতিতে পাহাড়ের ঢালু রাস্তায় নামার সময় হঠাৎ উল্টে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে।

অতিরিক্ত যাত্রীই কি কাল হলো? প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, বাসটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ছিল মাত্র ৫০ জন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় বাসে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৯০ জন যাত্রী ছিলেন। একদিকে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এবং অন্যদিকে উপত্যকার বিপজ্জনক মোড়ে ব্রেক ফেল করার কারণেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ওরসা উপত্যকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল বিয়ের উপহার এবং রক্তমাখা পোশাক।

হতাহতের তালিকা: এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মৃতরা হলেন— লীলাবতী দেবী, রমেশ মানিকা, ফাগুয়া রাম, রেশান্তী দেবী, প্রেমা দেবী, সীতা দেবী, সোনমতী দেবী, সুখনা ভূঁইয়া এবং বিজয় সিং। এঁরা সকলেই বলরামপুরের বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রায় দুই ডজন যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচির রিমস (RIMS) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় মহুয়াদন্ড স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ: ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লাতেহারের জেলাশাসককে আহতদের দ্রুত এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বাসটিকে বাজেয়াপ্ত করে যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখছে।