“তথ্য লোপাট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী!”— মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ইডির, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে এবার সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের তৈরি সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অফিসে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবার কলকাতার আই-প্যাক দপ্তর এবং সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক দেখল রাজ্য তথা দেশ। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আগুন আরও ঘি ঢেলেছে।

ইডির বিস্ফোরক অভিযোগ ও মমতার প্রতিবাদ: তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রতীক জৈনের বাড়িতে প্রবেশ করেন, সেই সময় সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ‘সরিয়ে ফেলা’ হয়েছে। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে প্রমাণ লোপাটে সাহায্য করেছেন। অন্যদিকে, এই অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার রাজপথে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৮বি বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ আমাকে আঘাত করলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলি না।” দিল্লিতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসের বাইরে তৃণমূল সাংসদরা বিক্ষোভ দেখান, যেখান থেকে আটজন সাংসদকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

বিবৃতি জারি আই-প্যাকের: অভিযানের একদিন পর আই-প্যাক একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছে। বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ এবং ‘উদ্বেগজনক নজির’ বলে অভিহিত করে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা একটি পেশাদার সংস্থা হিসেবে বিজেপি, কংগ্রেস, আপ বা শিবসেনার মতো বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করেছি। আমরা নির্বাচন লড়ি না, শুধু পরামর্শ দিই। গতকাল যা ঘটেছে তা সত্ত্বেও আমরা নির্ভীকভাবে কাজ চালিয়ে যাব।”

আইনি লড়াই ও বিজেপির কটাক্ষ: তদন্তকারী সংস্থা যাতে বাজেয়াপ্ত করা নথির অপব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে বিজেপির দাবি, মমতার আচরণই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে কয়লা পাচারের এমন কিছু তথ্য আই-প্যাকের কাছে আছে যা প্রকাশ্যে এলে শাসক দলের অস্বস্তি বাড়বে। এই মুহূর্তে আই-প্যাক বনাম ইডির এই লড়াই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে।