ইরানে গৃহযুদ্ধের কালো মেঘ! শাহজাদা রেজা পাহলভির ডাকে কাঁপছে তেহরান, পতন কি আসন্ন?

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা দমবন্ধ করা পরিস্থিতি এবার আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়েছে ইরানে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরাসরি ইসলামি শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। টানা ১২ দিন ধরে রাজপথে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে সরকারি ভবন, পুলিশ ফাঁড়ি এবং প্রশাসনিক দফতর। এই বিদ্রোহ কেবল তেহরানে সীমাবদ্ধ নেই; মাশহাদ, ইসফাহানসহ অন্তত ডজনখানেক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে গণবিক্ষোভ।
রেজা পাহলভির উত্থান ও রাজতন্ত্রের ছায়া এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই সবচেয়ে বড় নাম হিসেবে উঠে আসছে রেজা পাহলভির নাম। তিনি ইরানের শেষ শাহ-এর পুত্র এবং নিজেকে বৈধ ‘ক্রাউন প্রিন্স’ হিসেবে দাবি করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর নির্বাসিত হওয়া এই পরিবারটি এখন ফের আলোচনায়। সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে পাহলভির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তিনি সরাসরি সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষকে বর্তমান শাসনব্যবস্থা ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পাহলভি কি শুধুই একটি আবেগ, নাকি ক্ষমতা পরিবর্তনের কোনো বাস্তব রূপরেখা তাঁর কাছে আছে?
ক্ষমতা দখল কি সম্ভব? বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে জনরোষ তীব্র হলেও একটি সংগঠিত নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মেরুদণ্ড হলো ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’। যতক্ষণ না সামরিক বাহিনীর এই বিশাল কাঠামোতে ফাটল ধরছে, ততক্ষণ বড় কোনো অভ্যুত্থান বা ‘তখতাপলট’ হওয়া কঠিন। তবে জনসাধারণের মন থেকে একবার ভয়ের দেয়াল ভেঙে গেলে যেকোনো শক্তিশালী শাসনের পতন যে অনিবার্য, ইরান এখন সেই পথেই হাঁটছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব ইরানের এই অস্থিরতা কেবল তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। পশ্চিম এশিয়ার এই শক্তির টালমাটাল অবস্থা বিশ্ব তেলের বাজারে ধস নামাতে পারে। ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে মুহূর্তেই। যদি ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে, তবে তা রাশিয়া ও চিনের জন্য যেমন বড় ধাক্কা হবে, তেমনি আমেরিকা ও পশ্চিমা শক্তিগুলো এই সুযোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করবে।