শালতোড়ার ভাগ্য কি ফিরবে? ২০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের হাহাকার আর পাথর শিল্পের স্তব্ধ চাকা!

বাঁকুড়ার রুখা-শুখা শালতোড়া ব্লকের একসময়ের প্রাণভোমরা ছিল পাথর ভাঙার ক্রাশার শিল্প। প্রায় ২৫০টি ক্রাশার এবং ২০ হাজার শ্রমিকের রুটিরুজি আজ থমকে গিয়েছে রাজনীতির যাঁতাকলে। ২০২১ সালে সরকারি নির্দেশে খাদান থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হওয়ার পর কাঁচামালের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে এই শিল্প। পেটের টানে হাজার হাজার শ্রমিক আজ ভিন রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। ভোট আসতেই সেই ক্ষতবিক্ষত শিল্প নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপির তীব্র তরজা।
বিজেপির দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই এলাকায় গেরুয়া শিবির জয়লাভ করায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে রাজ্য সরকার। বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির অভিযোগ, “বিজেপি জিতেছে বলেই তৃণমূল পরিকল্পনা করে এই শিল্প বন্ধ করে রেখেছে। ২০-২৫ হাজার মানুষ আজ ঘরছাড়া।” অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর পালটা দাবি, সরকার ইতিমার্থেই চারটি লাইসেন্স দিয়েছে এবং শিল্পটি পুরোপুরি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে, আমরা শ্রমিকদের মারব না।”
২০২৩ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই শিল্প পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নগণ্য। হাতেগোনা কয়েকটি খাদান খুললেও বিশাল সংখ্যক ক্রাশার আজও অচল। শনিবার শালতোড়ায় ফের জনসভা করতে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্ধ ক্রাশারের জং ধরা যন্ত্রাংশ আর পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘর ফেরার আকুতি মেটাতে তিনি কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আপামর জেলাবাসী।