ইডি-র হাত থেকে তথ্য ‘ছিনতাই’? আইপ্যাক দপ্তরে মমতার মুখোমুখি অফিসাররা, ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার সল্টলেকের আইপ্যাক দপ্তরে ইডি-র তল্লাশি অভিযানে যা ঘটল, তা কার্যত গোয়েন্দা কাহিনীর চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। সূত্রের খবর, শতাধিক ডেস্কটপের ভিড়ে সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা যখন সবেমাত্র একটি কম্পিউটারের ‘হ্যাশ ভ্যালু’ তৈরি করে তথ্য ব্যাকআপ নেওয়া শুরু করেছিলেন, ঠিক তখনই ঝড়ের বেগে সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডিজি রাজীব কুমার। অভিযোগ, মাঝপথেই থমকে যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের কাজ।
তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে যথেষ্ট বিনম্র আচরণ করলেও, ডিজি রাজীব কুমারের ভূমিকা ছিল বেশ কড়া। ইডি-র বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথিপত্র সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা একপ্রকার জোর করেই নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। প্রতীক জৈনের বাড়িতেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। ফলে দীর্ঘক্ষণ অভিযান চালালেও শেষমেশ ইডি-কে একপ্রকার ‘খালি হাতেই’ ফিরতে হয়েছে।
এই ঘটনায় ইডি-র অন্দরেই পরিকল্পনার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফরেনসিক টিম যদি আরও আগে ব্যাকআপ নেওয়া শুরু করত, তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতছাড়া হতো না বলে মনে করছেন আধিকারিকদের একাংশ। ইতিমার্থেই এই নজিরবিহীন ঘটনা নিয়ে অর্থ মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে ইডি ও সিআরপিএফ। মামলার জল গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত, যা নিয়ে এখন সরগরম জাতীয় রাজনীতি।