শীতের কামড়ে কাঁপছে উত্তর ভারত! পাঞ্জাবে বাড়ল স্কুলের ছুটি, কী সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ড?

উত্তর ভারত জুড়ে হাড়কাঁপানো শীতের দাপট অব্যাহত। প্রবল শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার জোড়া ফলায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তাপমাত্রার পারদ নামতে নামতে বছরের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এই চরম পরিস্থিতিতে শিশু ও পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ডসহ একাধিক রাজ্যে স্কুল ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, বেসরকারি এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে আগামী ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি থাকবে। প্রাক-নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত ক্লাস এবং যাবতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ছুটির যে সময়সীমা ছিল, বর্তমান আবহাওয়া বিচার করে তা দ্বিতীয়বার বাড়ানো হলো। ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, তাই পড়ুয়াদের ঝুঁকি এড়াতেই এই কড়া পদক্ষেপ।

ঝাড়খণ্ডের চিত্র: শৈত্যপ্রবাহের দাপট থেকে রেহাই পায়নি ঝাড়খণ্ডও। সেখানেও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন কার্যত স্থবির। ঝাড়খণ্ড শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগ রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছিল। তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীতের দাপট না কমলে সেখানেও ছুটির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ভোরে স্কুলের বাস বা সাইকেলে যাতায়াত করা পড়ুয়াদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লিতেও তাপমাত্রার পারদ ৪-৫ ডিগ্রির নিচে থাকতে পারে। এমন অবস্থায় অভিভাবকদের একটাই দাবি— যতক্ষণ না কুয়াশা ও ঠান্ডার প্রকোপ কমছে, ততক্ষণ যেন স্কুল খোলার ঝুঁকি না নেওয়া হয়। পাঞ্জাব সরকার সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ১৩ জানুয়ারির পর পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।