গঙ্গাসাগরে থাকবে রোবোট ‘নুলিয়া’, কেউ জলে ডুবলেই পৌঁছে যাবে উদ্ধারে!

মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় সামলাতে এবার প্রযুক্তির ঢাল ব্যবহার করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা গঙ্গাসাগর মেলায় নিরাপত্তার প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন’। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে কোনো পুণ্যার্থী ভেসে গেলে বা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে, দেবদূতের মতো তাকে উদ্ধার করবে এই রিমোটচালিত রোবট।

কী এই ‘লাইফবয় ওয়াটার ড্রোন’? এটি মূলত একটি রিমোট কন্ট্রোল চালিত রেসকিউ রোবট, যা সাধারণ লাইফবয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কার্যকর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি। এটি একজন অলিম্পিক সাঁতারুর চেয়েও প্রায় তিন গুণ দ্রুত (প্রতি সেকেন্ডে ৭ মিটার গতিতে) জলের বুক চিরে এগিয়ে যেতে পারে। ১০ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সাগরের উপকূলে অতন্দ্র প্রহরীর মতো মোতায়েন থাকবে এই ড্রোন।

বিস্ময়কর ক্ষমতা: ১ টন ওজন টানতে সক্ষম এই ড্রোনটি যেমন দ্রুত, তেমনই শক্তিশালী। এটি ১০০০ কিলোগ্রাম বা প্রায় ১ টন পর্যন্ত ওজন টেনে আনার ক্ষমতা রাখে। ফলে একসঙ্গে একাধিক ডুবন্ত মানুষ বা ছোটখাটো গাড়িকেও এটি জল থেকে টেনে পারে নিয়ে আসতে পারে। ড্রোনটিতে বসানো রয়েছে ১০৮০পি এইচডি ক্যামেরা এবং জিপিএস ট্র্যাকার, যা দিয়ে কন্ট্রোল রুম থেকে নিখুঁত নজরদারি চালানো সম্ভব।

স্মার্ট রেসকিউ সিস্টেম বিপদে পড়া মানুষকে দেখা মাত্রই মাত্র ২ সেকেন্ডের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারে এই ড্রোন। যদি কোনো কারণে ড্রোনের ব্যাটারি ১৫ শতাংশের নিচে নেমে যায় বা সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হয়, তবে এটি নিজে থেকেই লঞ্চিং পয়েন্টে ফিরে আসবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে যুগান্তকারী বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্রোনের পাশাপাশি নিরাপত্তায় থাকছে ২,৫০০ স্বেচ্ছাসেবক, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF) এবং কোস্ট গার্ডের বিশাল বাহিনী।