২৫ শতাংশ টাকা উধাও? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শোনাল নবান্ন!

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী ও আধিকারিকদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার পরিবর্তে, তাঁদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার ওপর বড়সড় কাঁচি চালাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পেনশন এবং গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে শিক্ষা দপ্তর। সরকারের এই নয়া পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কী থাকছে নতুন নির্দেশিকায়? সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্তদের যে পেনশন দেওয়া হচ্ছে, তা স্থায়ী নয়; বরং ‘প্রভিশনাল’ বা অস্থায়ী ভিত্তিতে দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে। নতুন নিয়মে অবসরপ্রাপ্তরা তাঁদের প্রাপ্য গ্র্যাচুইটির সম্পূর্ণ টাকা একবারে পাবেন না। প্রথম পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে মাত্র ৭৫ শতাংশ গ্র্যাচুইটি দেওয়া হবে। বাকি ২৫ শতাংশ টাকা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পেনশনের এককালীন অংশ বা ‘কমিউটেশন’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কাদের ওপর পড়বে এই প্রভাব? এই নতুন নিয়ম মূলত তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যাঁরা ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর বা তার পরে অবসর গ্রহণ করেছেন এবং যাঁরা জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) প্রকল্পের আওতাভুক্ত। সরকারের এই সিদ্ধান্তে কয়েক হাজার প্রবীণ মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়: যাদবপুর, কলকাতা, বর্ধমান এবং রবীন্দ্রভারতী সহ রাজ্যের ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকার গায়ের জোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের (JUTA) সাধারণ সম্পাদক পার্থ প্রতিম রায় সাফ জানিয়েছেন, “অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকা উচিত। সরকার কৌশলে কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্য শাঙ্খ্যায়ন চৌধুরীও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই ছিল। বারবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও সরকার কর্ণপাত করেনি। এখন আন্দোলনের পথেই হাঁটতে হবে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবি: এদিকে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এসেছে আরও এক জ্বলন্ত সমস্যা। রাজ্যের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য থাকলেও ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও নিয়োগ আটকে রয়েছে আইনি জট ও সরকারি উদাসীনতায়। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতা ভাস্কর গোস্বামীর মতে, স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে, পেনশনে কোপ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা—এই দুই সাঁড়াশি চাপে বর্তমানে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্র ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা দিশেহারা।