“গঙ্গায় কেমিক্যাল হামলার আশঙ্কা!”-‘জিহাদি’ তত্ত্বে অহিন্দু প্রবেশ নিষেধের আর্জি VHP নেত্রীর

২০২৭ সালের অর্ধকুম্ভ মেলার প্রস্তুতি শুরু হতেই সরগরম তীর্থনগরী হরিদ্বার। গঙ্গার ঘাটগুলিতে অ-হিন্দুদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) নেত্রী সাধ্বী প্রাচী। তাঁর মতে, হরিদ্বার এবং হর-কি-পৌরি এলাকাকে ‘অমৃত ক্ষেত্র’ ঘোষণা করে সেখানে অহিন্দুদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত।

মক্কা-মদিনার উদাহরণ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন

একটি সাংবাদিক বৈঠকে সাধ্বী প্রাচী দাবি করেন, যদি মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানে অ-মুসলিমদের প্রবেশাধিকার না থাকে, তবে হরিদ্বারের মতো পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থানেও একই নিয়ম চালু করা উচিত। তাঁর আশঙ্কা, কুম্ভমেলা চত্বরে অ-হিন্দুদের অবাধ যাতায়াত থাকলে ‘জিহাদি কার্যকলাপ’-এর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এমনকি কুম্ভ এলাকায় অ-হিন্দুদের সম্পত্তি কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা চান তিনি।

রাসায়নিক হামলার আশঙ্কা ও দিল্লির উদাহরণ

নিরাপত্তার প্রসঙ্গে গত বছরের লালকেল্লার সামনে হওয়া গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। সাধ্বী প্রাচী বলেন, “জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো রাসায়নিক যদি গঙ্গায় মিশিয়ে দেওয়া হয়, তবে কোটি কোটি পুণ্যার্থীর প্রাণহানি ঘটতে পারে।” তাঁর দাবি, কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এখনই সরকারকে আইন আনা প্রয়োজন।

স্নান নিয়ে আপত্তি

হরিদ্বারের ঘাটগুলিতে অ-হিন্দুদের স্নান করা নিয়েও তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন এই নেত্রী। তাঁর দাবি, সম্প্রতি দিল্লির কিছু মহিলা ‘খারাপ উদ্দেশ্য’ নিয়ে হরিদ্বারে স্নান করেছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতেই তিনি এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধের দাবি তুলেছেন।

প্রশাসনের অবস্থান কী?

বর্তমানে হরিদ্বারের ১২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মোট ১০৫টি ঘাট রয়েছে। সরকারিভাবে এখনও অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তবে একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৭ সালের অর্ধকুম্ভ মেলায় যেখানে প্রায় ৭ কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম হতে পারে, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরাখণ্ড সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথি থেকে শুরু হবে এই মেলা, যা টানা ৪৫ দিন ধরে চলার পর শিবরাত্রির দিন শেষ হবে।