পথকুকুরের সংখ্যা গুনতে হবে শিক্ষকদের, সরকারি নোটিসে তুঙ্গে বিতর্ক

বিহারের শিক্ষকদের কাজের তালিকায় এবার যুক্ত হলো এক অভাবনীয় দায়িত্ব। জনগণনা এবং বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাজের পর এবার তাঁদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে পথকুকুরের সংখ্যা গুনতে হবে। সম্প্রতি এমনই এক বিচিত্র নির্দেশিকা জারি করেছে বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন।

নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে? পুরনিগমের কমিশনার বিকাশ কুমারের সই করা ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে:

সাসারাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকার প্রতিটি স্কুলে একজন শিক্ষককে ‘নোডাল অফিসার’ হিসেবে নিযুক্ত করতে হবে।

তাঁদের প্রধান কাজ হবে স্কুল চত্বর এবং তার আশেপাশে কতগুলি পথকুকুর রয়েছে, তার সঠিক তথ্য জোগাড় করা।

শুধু সংখ্যা জানাই নয়, ওই কুকুরগুলোর শারীরিক অবস্থা কেমন এবং তাদের সংখ্যা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও শিক্ষকদের লিখিত প্রস্তাব দিতে হবে।

পুরনিগমের সাফাই সাসারাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কমিশনার বিকাশ কুমার জানান, সরকারি গাইডলাইন মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। শিক্ষকদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কুকুরদের নির্বীজকরণ বা সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (Animal Birth Control) তৈরি করবে প্রশাসন।

শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই বিহারের শিক্ষক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, মিড-ডে মিল সামলানো, ভোটার তালিকা তৈরি এবং জনগণনার মতো অ-শিক্ষক কাজে তাঁদের এমনিতেই নাজেহাল হতে হয়। তার ওপর এবার ‘কুকুর গণনা’র মতো কাজে তাঁদের নিযুক্ত করা পড়াশোনার পরিবেশকে আরও নষ্ট করবে। অনেক শিক্ষক নেতা একে শিক্ষকদের জন্য ‘অপমানজনক’ বলেও দাবি করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে ট্রোলিং। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, “শিক্ষকরা যদি কুকুর গুনতেই ব্যস্ত থাকেন, তবে ক্লাসরুমে পড়াবে কে?”