সাইবার ক্রাইম কোর্স করেই ATM লুট! পুলিশের হাতে পাকড়াও ছাত্র

সাইবার অপরাধ কীভাবে রুখতে হয়, তা শিখতে হায়দরাবাদে এসেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের বছর ২৪-এর এক যুবক। কিন্তু সেই শিক্ষাকেই অপরাধের কাজে লাগিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল পুলিশের তৎপরতায়। হায়দরাবাদের হাফিজ়পতের একটি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এটিএম থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হল ভাড্ডে কাটামাইয়া নামের ওই তরুণকে।

কীভাবে চলত এই অপারেশন? পুলিশ জানিয়েছে, কাটামাইয়া একটি বিশেষ ‘টেকনিক্যাল ডিভাইস’ ব্যবহার করে এটিএম মেশিনটিকে হ্যাক করার চেষ্টা করছিল। তার কারসাজিতে গ্রাহক যখন টাকা তুলতে আসছিলেন, তখন মেশিনটি টাকা না বের করে ‘ট্রানজ্যাকশন ফেল’ বা যান্ত্রিক গোলযোগ দেখাত। সাধারণ গ্রাহক যখন বিরক্ত হয়ে এটিএম থেকে বেরিয়ে যেতেন, ঠিক তখনই সেই ডিভাইসের সাহায্যে আটকে থাকা টাকা বের করে নিত কাটামাইয়া ও তার সঙ্গী।

পুলিশি অ্যাকশন রবিবার রাতে ১০০ ডায়ালে খবর পেতেই মিয়াপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মিয়াপুরের এসিপি ওয়াই শ্রীনিবাস কুমার জানান, “আমাদের টিম পৌঁছে দেখে এটিএম-এর ভেতরে একটি ডিভাইস নিয়ে কারসাজি করছে কাটামাইয়া। তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তবে তার সহযোগী রামানুজানেয়ুলু নামে এক ব্যক্তি এখনও পলাতক।

তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত কাটামাইয়া অনন্তপুর জেলার বাসিন্দা এবং হায়দরাবাদে সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত একটি প্রফেশনাল কোর্স করছিল। কোর্সে শেখানো বিভিন্ন টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি সে এটিএম লুটের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে শুরু করে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এর আগে তারা আর কোনো কোনো এটিএম-এ একইভাবে লুট চালিয়েছে কি না।

হায়দরাবাদ পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছে, এটিএম-এ টাকা তোলার সময় মেশিন অস্বাভাবিক আচরণ করলে বা কোনো ডিভাইস লাগানো আছে সন্দেহ হলে অবিলম্বে পুলিশকে জানাতে।