বাংলাদেশে একজোট হিন্দুরা, খুনের প্রতিবাদে ইউনূসকে চরম হুঁশিয়ারি

ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের কালো মেঘ যেন কাটতেই চাইছে না। গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩৫ দিনে কমপক্ষে ১১ জন এবং শেষ ১৮ দিনের মধ্যেই ৬ জন হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবার পথে নেমে আন্দোলনে শামিল হলেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তী খুনে তোলপাড়: সোমবার রাতে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় মণি চক্রবর্তী নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হত্যাকাণ্ড। হামলাকারীরা মণির মোবাইল বা মোটরসাইকেল স্পর্শও করেনি, কেবল প্রাণ কেড়ে নিয়ে চম্পট দেয়। মঙ্গলবার এই ঘটনার প্রতিবাদে চরসিন্দুর বাজারের শত শত ব্যবসায়ী স্থানীয় বাজার সমিতির ব্যানারে ‘মানববন্ধন’ করেন। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার না করলে আরও কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।

রক্তাক্ত পরিসংখ্যান ও ‘টার্গেট কিলিং’-এর ছক? বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খুনের খতিয়ান শিউরে ওঠার মতো:

  • যশোর: মণি চক্রবর্তীকে খুনের দিনই সংবাদপত্র সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগীকে গুলি করে মারা হয়।

  • নরসিংদী: প্রকাশ্য বাজারে এক হিন্দু যুবককে মাথায় ৭টি গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

  • ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা: একাধিক জেলায় একই কায়দায় হামলা চালানো হয়েছে।

  • নৃশংসতার চরম সীমা: গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে খুনের পর তাঁর দেহ গাছে ঝুলিয়ে জ্বালিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। এছাড়া ৩ জানুয়ারি খোকন চন্দ্র দাস ও ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডলকেও পিটিয়ে মারা হয়।

অস্তিত্ব সংকটে সংখ্যালঘুরা: ২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা এখন মাত্র ৭.৯৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে যেভাবে একের পর এক পরিকল্পিত হামলা ও খুনের ঘটনা ঘটছে, তাতে এদেশের হিন্দুরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ময়মনসিংপুর থেকে শরীয়তপুর— প্রতিটি জনপদ থেকেই এখন কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে।

আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের দাবি, বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে এবং বেছে বেছে হিন্দুদের নিশানা করা হচ্ছে। নরসিংদীর এই আন্দোলন এখন ওপার বাংলার কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।