দোকানে ঢুকে কোপ, গলিতে গলা কেটে হত্যা! বাংলাদেশে অব্যাহত হিন্দু নিধনযজ্ঞে উত্তাল আন্তর্জাতিক মহল

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলা অমানবিক হিংসা ও রক্তক্ষয়ী হামলা থামার কোনো লক্ষণ নেই। সোমবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নরসিংদী ও যশোরে দুই হিন্দু যুবককে অত্যন্ত বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই জোড়া খুনের ঘটনায় ওপার বাংলার সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
নরসিংদী জেলার ঘটনাটি শিউরে ওঠার মতো। পেশায় মুদি দোকানদার মনি চক্রবর্তীকে সোমবার রাতে তাঁর দোকানের মধ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় আততায়ীরা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, যশোরের আইস ফ্যাক্টরি মালিক তথা সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে ফ্যাক্টরি থেকে বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করার পর গলা কেটে খুন করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোল উদ্ধার করেছে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে হিন্দুদের টার্গেট করে একের পর এক অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ঝিনাইদহে এক হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণ ও অপমানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল বিশ্ব। এছাড়াও মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা, ময়মনসিংহে বজেন্দ্র বিশ্বাস এবং রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সেখানে সংখ্যালঘুরা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের ওপর এই ধারাবাহিক আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারত সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রশাসনের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে ঢাকা প্রশাসন অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।