“ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দিল আমেরিকা…”-সত্যি হবে কি বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী?

২০২৬ সাল শুরু হতে না হতেই বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক চরম অস্থিরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার ওপর ভয়াবহ এয়ারস্ট্রাইক এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তারের ঘটনাটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে টক অফ দ্য টাউন। তবে এই সংঘাতের মাঝেই নতুন করে ভাইরাল হতে শুরু করেছে বিশ্বখ্যাত দুই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা— নস্ত্রাদামুস এবং বাবা ভাঙ্গার হাড়হিম করা সব ভবিষ্যদ্বাণী।
নস্ত্রাদামুসের ২০২৬: যুদ্ধের আগাম পূর্বাভাস? ষোড়শ শতাব্দীর ফরাসি জ্যোতিষী নস্ত্রাদামুসের লেখনী অনুযায়ী, ২০২৬ সাল বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাঁর শ্লোকে উল্লেখ ছিল ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের নামে ব্যাপক সহিংসতার কথা। নস্ত্রাদামুসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
-
সামুদ্রিক বিপর্যয়: সমুদ্রে একটি বিশাল জাহাজডুবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বশক্তির মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
-
খাদ্য সংকট: সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও শস্যের দামে আগুন লাগবে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে।
-
নেতৃত্বের পতন: ২০২৬ সালে রাজনৈতিক ডামাডোলে অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতার পতন ঘটবে, যার প্রতিফলন সম্ভবত আমরা ভেনেজুয়েলাতেই দেখতে পাচ্ছি।
বাবা ভাঙ্গার ভয়ংকর ভবিষ্যৎবাণী: বুলগেরিয়ার অন্ধ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা, যিনি অনেক আগেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়া এবং ৯/১১ হামলার কথা বলেছিলেন, তিনিও ২০২৬ সাল নিয়ে দিয়েছেন বিপজ্জনক সব তথ্য।
-
পূর্ব ও পশ্চিমের সংঘর্ষ: বাবা ভাঙ্গার মতে, ২০২৬ সালে পূর্বের কোনো দেশে যুদ্ধের আগুন জ্বলবে যা ক্রমে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে।
-
ত্রিমুখী সংঘাত: চিন, রাশিয়া এবং আমেরিকার মতো পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
-
তাইওয়ান ও আমেরিকা: ২০২৬-এ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চিনের পদক্ষেপ এবং রাশিয়া-আমেরিকার সরাসরি টক্কর বিশ্বকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করাবে।
ভবিষ্যদ্বাণী কি ফলে যাচ্ছে? ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পর নেটিজেনরা দুইয়ে দুইয়ে চার করছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কি নস্ত্রাদামুসের সেই ‘বিপর্যয়’-এর শুরু? ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল এবং মাদুরোকে গ্রেপ্তার কি কোনো বড় ষড়যন্ত্রের অংশ? বাবা ভাঙ্গার অনুসারীরা মনে করছেন, যেভাবে বিশ্ব রাজনীতি এখন উত্তপ্ত, তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর খুব একটা দূরে নেই।
যদিও বিজ্ঞান এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে বিশ্বাস করে না, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।