হাহাকার রেলপথে! সেতু থেকে নিচে ছিটকে পড়ল ১০টি বগি, হাওড়া-দিল্লি রুটে ট্রেনের পাহাড়-প্রমাণ লিস্ট বাতিল!

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে ১১টা। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় যখন যাত্রীরা ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল বিহারের জামুই জেলা। ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল জসিডিহ–ঝাঝা শাখা। তেলওয়া হল্টের কাছে বারুয়া নদীর ওপর ব্রিজের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় লাইনচ্যুত হল সিমেন্ট বোঝাই একটি মালগাড়ি। রেল সূত্রে খবর, ১৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে যার মধ্যে ১০টি বগি সরাসরি ব্রিজ থেকে নিচে পড়ে গিয়েছে।
এই দুর্ঘটনার জেরে কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে হাওড়া-দিল্লি মেইন লাইন। আসানসোল রেল ডিভিশনের অন্তর্গত এই শাখায় আপ ও ডাউন—উভয় পথেই ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলের তরফে একগুচ্ছ দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল ও রুট পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে।
একনজরে বাতিল ট্রেনের তালিকা (২৮ ডিসেম্বর):
আজকের যাত্রার জন্য নির্ধারিত নিচের ট্রেনগুলি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে:
হাওড়া–ডেহরাদুন কুম্ভ এক্সপ্রেস (১২৩৬৯)
শিয়ালদহ–বলিয়া এক্সপ্রেস (১৩১০৫)
মোকামা–হাওড়া এক্সপ্রেস (১৩০৩০)
জসিডিহ-মোকামা মেমু (৬৩৫৭১), কিউল-জসিডিহ মেমু (৬৩৫৭৪), দেওঘর-ঝাঝা মেমু (৬৩২৯৭) সহ জসিডিহ ও কিউল রুটের সবকটি মেমু ও লোকাল ট্রেন।
রুট বদল হয়েছে যে ভিআইপি ট্রেনগুলোর:
দুর্ঘটনার কারণে সরাসরি দিল্লি বা পাটনা যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প পথে চালানো হচ্ছে একাধিক প্রিমিয়াম ট্রেন:
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস: হাওড়া–পাটনা (২২৩৪৭) এবং বারাণসী–দেওঘর (২২৫০০/২২৪৯৯)।
রাজধানী এক্সপ্রেস: হাওড়া–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস (১২৩০৫)।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন: টাটানগর–বক্সার এক্সপ্রেস, কলকাতা–গোরখপুর পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেস, আসানসোল–মুম্বই সিএসএমটি এক্সপ্রেস এবং বাঘ এক্সপ্রেস।
আংশিক বাতিল (Short Termination):
পাটনা–জসিডিহ–পাটনা এক্সপ্রেস (১৩২০৮/১৩২০৭) এবং পাটনা–দেওঘর মেমু ঝাঝা পর্যন্ত চালানো হবে। অর্থাৎ এই ট্রেনগুলি জসিডিহ পর্যন্ত যাবে না।
রেল কর্তৃপক্ষের বার্তা: যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেললাইন মেরামতির কাজ চলছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। যাত্রীদের অনুরোধ করা হচ্ছে, স্টেশনে রওনা দেওয়ার আগে অবশ্যই ১৯১৩ বা রেলের অফিসিয়াল অ্যাপ থেকে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান যাচাই করে নিন।