“বাংলাকে বাংলাদেশ হতে দেব না!” কুলটিতে হুঙ্কার মিঠুনের, ‘শেষ রক্তবিন্দু’ দিয়ে লড়াইয়ের ডাক মহাগুরুর!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন এখনও এক বছরের বেশি দেরি, কিন্তু রাজনীতির পারদ এখনই তুঙ্গে। শনিবার আসানসোলের কুলটিতে বিজেপির জনসভা থেকে ফের স্বমহিমায় ধরা দিলেন ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ইস্যুতে হিন্দুদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে কার্যত নির্বাচনী যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন তিনি।

কুলটির আলডি ফুটবল ময়দানের ভিড় ঠাসা সভা থেকে মিঠুন সাফ জানান, “অতো সহজ নয় বাংলাকে বাংলাদেশ করে দেওয়া। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে আমরা বাংলাকে বাঁচাবো।”

বিস্ফোরক মিঠুন: দুর্নীতি ও বাংলাদেশ ইস্যু
বিজেপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির এই হেভিওয়েট সদস্য এদিন তৃণমূল সরকারকে বিঁধে বলেন, “বাংলায় কোনও উন্নয়ন নেই। কল-কারখানা থেকে শুরু করে শিক্ষা বা স্বাস্থ্য—সবই এখন তলানিতে। আছে শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে এটা যেন পশ্চিমবঙ্গ নয়, ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হয়ে গিয়েছে। যেখানে হিন্দুদের ওপর আঘাত এলেও প্রতিবাদ করার জায়গা নেই।

হুমায়ুন কবীর ও ‘৭০ শতাংশ’ বিতর্ক
তৃণমূল থেকে সদ্য সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের পুরনো একটি বিতর্কিত মন্তব্য টেনে এনে আক্রমণ শানান মিঠুন। তিনি বলেন, “হুমায়ুন বলেছিলেন ৭০ শতাংশ মানুষ মিলে ৩০ শতাংশ হিন্দুকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দেবেন। এখন শুনছি তিনি বলছেন মুখ্যমন্ত্রী নাকি ওসব বলতে বলেছিলেন! ভাবুন একবার রাজ্যের শাসক দলের কী অবস্থা!”

‘মুসলমানদের বিরোধী নই’
এদিনের মঞ্চ থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। তবে যারা এ দেশে থেকে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে।” কাশ্মীরের উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মতো অবস্থা যেন এ রাজ্যে না হয়, তার জন্য এখনই সনাতনীদের একজোট হতে হবে।

এদিনের সভায় মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, অজয় পোদ্দার এবং আসানসোল জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে মিঠুনের এই ‘বাংলাদেশ’ এবং ‘সনাতনী’ কার্ড বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01