বিধানসভা ভোটের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভ কি কাল হবে তৃণমূলের? কড়া হুঁশিয়ারি অধীরের!

ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর লাগাতার হামলা এবং ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদের এক যুবককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। শুক্রবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি আটকে থাকা শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে তৎপরতা শুরু করেছেন। একইসঙ্গে রাজ্যের শাসক দলকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন পাঁচবারের এই সাংসদ।
উদ্বেগ ও উদ্ধার তৎপরতা: অধীর চৌধুরী জানান, ওড়িশার কেওনঝাড় জেলায় মুর্শিদাবাদের সুতির বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন। হামলার ভয়ে তাঁরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। অধীর বাবু বলেন, “আমি ওখানকার এসপি-র সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের নির্বিঘ্নে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” এছাড়াও তামিলনাড়ুর কুট্টালুনে ভগবানগোলার আওয়াল শেখ সহ সাতজন ছ’মাস ধরে জেলে বন্দি। তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অধীর বাবুর অভিযোগ, “ওখানকার পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে বাংলাভাষী আর বাংলাদেশি এক নয়।”
শাসক দলকে আক্রমণ: পরিযায়ী শ্রমিকদের এই দুর্দশার জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থানের অভাবকে দায়ী করেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁর সাফ কথা, “হয় রাজ্য সরকার এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুক, নতুবা ভিনরাজ্যে শ্রমিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিক।” তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে কাজ না পেয়ে শ্রমিকরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বারবার ভিনরাজ্যেই ফিরে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় ১৪ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছেন। এই বিশাল ভোটব্যাংকের দিকে নজর রয়েছে সব দলেরই। সম্বলপুরে জুয়েল রানার কফিনবন্দি দেহ গ্রামে ফিরতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ইস্যুটি শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের কাছেই এখন তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।