চিংড়ির খোসা ছাড়িয়েই ফিরছে ভাগ্য, বসিরহাটের অখ্যাত গ্রামগুলিতে এখন নিঃশব্দ বিপ্লব!

বসিরহাটের দেবীপুর, চণ্ডীগড় কিংবা আকিপুর—ভোরের আলো ফোটার আগেই এই গ্রামগুলোতে শুরু হয়ে যায় এক ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। এখানে ঘড়ির কাঁটা নয়, বরং দিঘার ভ্যান আর ছোট ট্রাকের হর্ন বলে দেয় কাজ শুরুর সময়। সংসারের রান্নাবান্না আর ঘরকন্নার কাজ সামলে কাকভোরেই পথে নামেন শত শত মহিলা। তাঁদের গন্তব্য কোনো অফিস নয়, বরং চিংড়ির আড়ত। বাগদা চিংড়ির খোসা ছাড়ানোর এই কাজকেই এখন স্বনির্ভরতার প্রধান হাতিয়ার করে নিয়েছেন বসিরহাটের প্রান্তিক নারীরা।
প্রতিদিন ভোরে দিঘা থেকে টাটকা বাগদা চিংড়ি এসে পৌঁছায় বসিরহাটের আড়তে। সেখান থেকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সেই মাছ চলে যায় বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লায়। তারপরই শুরু হয় আসল কাজ। সারি দিয়ে বসে দক্ষ হাতে মাছের খোসা ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মহিলারা। কাজটা আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে চরম ধৈর্য ও নিপুণতা। প্রতি কেজি চিংড়ির খোসা ছাড়ানোর বিনিময়ে তাঁরা পান ৮ থেকে ৯ টাকা। অভিজ্ঞতার নিরিখে একজন মহিলা দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি মাছের খোসা ছাড়াতে পারেন। ফলে দিনের শেষে ১০০ টাকার কাছাকাছি রোজগার নিশ্চিত হয় তাঁদের।
এই প্রক্রিয়াজাত চিংড়িগুলোই পরে উন্নত প্যাকিংয়ের মাধ্যমে পাড়ি দেয় ভিন রাজ্য থেকে বিদেশের বাজারে। অর্থাৎ, বসিরহাটের এই মহিলাদের হাতের ছোঁয়া ছাড়া বিশাল এই রফতানি শিল্প কার্যত অচল। নিজের সন্তানদের পড়াশোনা চালানো কিংবা সংসারের অভাব মেটাতে এই কাজ আজ বহু মহিলার কাছে বাঁচার রসদ। নীরবে ঘাম ঝরিয়েই গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন বসিরহাটের এই অদম্য নারীশক্তি।