ঢাকায় ‘অ্যান্টি ইন্ডিয়া’ স্লোগান-মিছিল,বাংলাদেশিদের ভারতে ঢোকা বন্ধ করল দিল্লিও

বাংলাদেশে বেড়েই চলেছে ভারত-বিদ্বেষী উন্মাদনা। বুধবার ঢাকার রাজপথে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে মিছিল শুরু করলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যারিকেড দিলেও তা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘটনায় ওপার বাংলার ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।
ঠিক কী ঘটেছে? স্থানীয় সূত্রে খবর, মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবি জুবায়ের। ‘জুলাই ঐক্য’ ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলটি রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিক্ষোভকারীরা ভারত-বিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জোরাল দাবি জানায়।
ব্যারিকেড ভেঙে এগোলো মিছিল: পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দূতাবাস এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় উত্তর বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সামনেই কড়া ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মারমুখী বিক্ষোভকারীরা প্রথম পর্যায়ের ব্যারিকেড ভেঙে ফেললে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্বিতীয় দফায় বড় পুলিশ বাহিনী মিছিলটিকে আটকে দেয়। এর ফলে ওই এলাকায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি: বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাংলাদেশের রাজনীতি ও মিডিয়ায় ভারতের একাংশ ‘আধিপত্য’ বিস্তারের চেষ্টা করছে। মিছিলে স্লোগান ওঠে, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা’। এক বিক্ষোভকারী সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা হাইকমিশনে হামলা করতে চান না, তবে বাংলাদেশের ওপর ভারতের ‘দাদাগিরি’ কোনওভাবেই মেনে নেবেন না।
ভারতের পালটা পদক্ষেপ: ঢাকার এই অস্থির পরিস্থিতিতে হাত গুটিয়ে বসে নেই নয়াদিল্লি। ভারতীয় হাইকমিশন ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত সরকার মহম্মদ ইউনূস প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছে।
-
তলব: নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
-
ভিসা বন্ধ: নিরাপত্তার কারণে ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
নিরাপত্তা জোরদার: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার নূর-এ-আলম সিদ্দিকি জানিয়েছেন, দূতাবাস এলাকায় এখন কয়েক গুণ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের এই উত্তপ্ত ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব দুই দেশের দীর্ঘকালীন কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।