কলকাতায় সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধারা, শেখ হাসিনার নির্বাসন ও ইউনূসের শাসন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেলেন সবাই; স্বাভাবিক অবস্থার প্রত্যাশা!

বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর)-এর প্রাক্কালে আজ সোমবার কলকাতার লোকভবনে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ প্রকাশ করেন।

তবে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের মাঝেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। গণ অভ্যুত্থানে বছরখানেক আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর বর্তমানে নোবেলজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের শাসনভার পরিচালিত হলেও এখনও ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াবে কি না, তা নিয়ে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনই কৌতূহল রয়েছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও।

মুক্তিযোদ্ধাদের নীরবতা: সংবাদমাধ্যম এই ‘ঘরোয়া বিষয়’ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলেও অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। যাঁরা কথা বলেছেন, তাঁরা সন্তর্পনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন।

প্রাক্তন মেজর জেনারেল কামরুল আবেদিন শুধু এইটুকু বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সকলে জানেন। খোঁজখবর রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছিলাম, তার থেকে এটি আলাদা। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আমরা ভালোদিনের জন্য আশা করছি। আমরা সকলেই ভাই-বাবা-চাচা। মুক্তিযুদ্ধ ৫৪ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, এখনও মনে হয় গতকালের ঘটনা।”

অন্যদিকে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য আবদুল্লা হিল শাহী ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আমরা প্রশিক্ষণ পেয়েছিলাম। আমরা আপ্লুত। আজও তারা আমাদের সম্মানিত করলেন। এটাই আমাদের কাছে গর্বের। কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনও প্রশ্নের জবাব দেওয়া ঠিক হবে না।”

রাজ্যপালের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বিজয় দিবসকে শুধুমাত্র ঐতিহাসিক দিন না বলে সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায় আদায়ের জীবন্ত স্মারক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অপরিসীম ত্যাগ ও অটল সংকল্পের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়, যার প্রতীক মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু বীরদের এই নীরবতা এবং ভালো দিনের প্রত্যাশা, প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।