শিশুর মনোযোগ বাড়াতে যা করণীয় আপনার, অবশ্যই জানুন

একেক বাচ্চার শেখার ধরন একেক রকম। কেউ শুনে বেশি ভালো মনে রাখতে পারে। কারও ভিজ্যুয়াল এলিমেন্টস। অর্থাৎ ডায়াগ্রাম, চার্ট, গ্রাফ ইত্যাদিতে বিষয়টা বেশি মনে গেঁথে যায়। কেউ আবার কোনো চ্যাপ্টার পড়ার পরে যদি সেটা নিজের মতো করে লিখে ফেলে, তাহলে তার আত্মস্থ করতে সুবিধা হয়। শিশুর এই বোঝার ধরনটা যদি বড়রা বুঝে সে অনুযায়ী তাদের পড়ান, তাহলে তাদেরও মন বসাতে সুবিধা হয়।
যে কোনো বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে দিলে কাজ করতে সুবিধা হয়। কাজটাও মন দিয়ে করে তারা। এটা পড়াশোনার ক্ষেত্রে তো সত্যি বটেই, বাড়ির কাজের ক্ষেত্রেও। ধরুন, আপনি শিশুকে বললেন, নিজের আলমারিটা গুছিয়ে ফেলতে। অনেকেই কিন্তু দোনামনা করবে, কাজটা ফেলে রেখে দেবে বা করলেও মন দেবে না। কিন্তু একেক দিন একেকটা তাক গুছিয়ে রাখতে বলুন, অনেক মন দিয়ে করবে। কাজের জন্য ছোট ছোট সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে গেলে ওকে মনোযোগ দিতে হবে।
প্রতিটি বাচ্চার পছন্দের হবি বা অ্যাক্টিভিটি এক হয় না। আপনার বাচ্চা ভালোবাসে গিটার বাজাতে, এদিকে আপনি চান ফাঁকা সময়ে ও শুধু বিভিন্ন ধরনের বই পড়ূক। এতে কিন্তু কারোরই লাভ হবে না। হ্যাঁ, বই পড়া নিশ্চয়ই খুব জরুরি। কিন্তু আপনি যদি ওর পছন্দের কাজটা ওকে না-ই করতে দেন, সেও কিন্তু আপনার পছন্দের কাজটা মন দিয়ে করবে না। তার চেয়ে মধ্যপন্থায় আসুন। ফাঁকা সময়ে ও ভালোবেসে মন দিয়ে গিটার বাজাক। ভালো ভালো বই ওকে পড়তে দিন। সেগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। মতামত বিনিময় করুন। ধীরে ধীরে ওর আগ্রহ বাড়বে। আর যে বিষয়ে আগ্রহ, তাতে যে মনোযোগও থাকবে, সে তো বলা বাহুল্য। কাজের মাঝখানে বিরতি অত্যন্ত জরুরি। একটানা যে কোনো কাজ করতে গেলে ক্লান্তি। মনঃসংযোগ কমে। সে কাজে মাথা খাটাতে হোক অথবা হাত-পা। তাই বাচ্চা যাতে নিয়মিত ব্রেক নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বিকেলে চাইলে একটু খেলে আসুক বা সাইক্লিং করে আসুক। এক্সারসাইজ হলে মন ভালো থাকে। মনোযোগে ঘাটতিও কম হয়। নজর রাখুন ওর খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের দিকেও। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খেলে হজমের সমস্যা এবং আরও নানা গোলমাল হতে পারে শরীরে। যার প্রভাব মাথা এবং মনে পড়বেই। একই কথা ঘুমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন ক্লান্ত লাগবে, কোনো কাজেই মন বসবে না। আর কাজের ভ্যালিডেশন অত্যন্ত জরুরি। যে কোনো কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে যদি ‘খুব ভালো’ বলেন, ওর কাজে উৎসাহ বাড়বে। সঙ্গে বাড়বে মনোযোগ।