গাছই সন্তান, নিঃসন্তান মনি দম্পতির ছাদজুড়ে থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের ফল, দাসপুরে ‘উড়ন্ত বাগান’ দেখতে ভিড়

সন্তান না হওয়ায় গাছকেই সন্তানের মতো লালনপালন করার এক অনন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বাসিন্দা সুভাষ মনি ও তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা মনি। তাঁদের এই ‘সবুজ ভালোবাসা’ দাসপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চারতলা বাড়ির ছাদে তৈরি করেছে এক মনোরম ‘উড়ন্ত বাগান’, যা ছোটখাট পার্ককেও হার মানায়।
প্রায় বারো বছর ধরে এই দম্পতি তাঁদের ১২০০ স্কোয়ার ফুট ছাদকে ফল ও ফুলের স্বর্গে পরিণত করেছেন।
বাগানের বিশেষত্ব:
বিদেশি ফলের সমাহার: ব্যবসায়ী সুভাষ মনি এবং প্রাক্তন শিক্ষিকা কৃষ্ণা দেবীর এই বাগানে রয়েছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের নানা প্রজাতির ফলের গাছ।
বিচিত্র ফল: রয়েছে মৌসুমী, আম, ড্রাগন ফল, কুল, জামরুল, আপেল, আঙুর-সহ আরও বহু ধরনের ফল।
ফুল ও পরিবেশ: অর্কিড, গোলাপ, জবা-সহ বহু রঙিন ফুলও সেজে উঠেছে ছাদজুড়ে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাটিতে জন্মানো বড় গাছও সুভাষ বাবুর দক্ষতায় টবে স্থান করে নিয়েছে।
সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে পরিচর্যা: ৭০ বছর বয়সেও সুভাষ মনি নিজ হাতে প্রতিটি গাছের পরিচর্যা করেন। তিনি জানান, “কোনও রাসায়নিক সার বা ওষুধ ব্যবহার করি না। সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে গাছগুলিকে বড় করি।” কিশোর বয়স থেকেই গাছ লাগানোর নেশা ছিল তাঁর। কাজের সূত্রে দাসপুরে আসার পর সেই শখ আরও বড়ো রূপ নেয় এই ছাদবাগানে।
অনুপ্রেরণা ও বার্তা: নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে মনি দম্পতি অতিরিক্ত ফল আশপাশের মানুষকে বিলিয়ে দেন। প্রতিদিন পাড়া প্রতিবেশী ও পরিচিতরা এই বাগান দেখতে আসেন। এই বাগান দেখে বহু মানুষ অনুপ্রাণিত হয়ে ঘরে গাছ লাগাতে শুরু করেছেন।
আজ যখন নগরায়ণের ফলে একের পর এক গাছ হারিয়ে যাচ্ছে, তখন নিঃসন্তান মনি দম্পতির এই সবুজ উদ্যোগ সমাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে— গাছই জীবনের আশা, প্রকৃতি প্রেমই ভবিষ্যৎ রক্ষা।