চাইল্ড প্রোডিজি, মোবাইল দেখে ৩ বছর ধরে মাটির প্রতিমা গড়ছে ১০ বছরের লোকেশ, কণ্ঠে শ্রীকৃষ্ণের কীর্তন

বর্তমানে যখন অনেক অভিভাবক শিশুদের মোবাইল আসক্তি নিয়ে জেরবার, তখন দুর্গাপুরের অণ্ডাল থানার শ্রীরামপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া লোকেশ ঘোষের প্রতিভা আপনাকে মুগ্ধ করবে। মাত্র ১০ বছর বয়সের এই শিশু সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও দেখে ৩ বছর ধরে মাটির প্রতিমা গড়ছে!

বিরল প্রতিভা:

স্বশিক্ষিত শিল্পী: লোকেশ কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই মোবাইল ফোনে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবের ভিডিও দেখে ছবি আঁকা এবং দেবদেবীর প্রতিমা তৈরির কৌশল শিখেছে।

নিখুঁত হাতের কাজ: মাত্র ৭ বছর বয়স থেকে সে নিপুণতার সঙ্গে কালী, দুর্গা, রাধাকৃষ্ণের মূর্তি-সহ সমস্ত ঠাকুর গড়ে তোলে। সামনেই সরস্বতী পুজো। এবার সে প্রায় ১০টি সরস্বতী মূর্তি গড়ছে—এক-দেড় ফুট থেকে প্রায় ৩-৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট।

মধুর কণ্ঠস্বর: মূর্তি গড়ার সময় লোকেশ আপন মনে শ্রীকৃষ্ণের কীর্তন গান গায়। তার হাতের কাজ যেমন নিখুঁত, তেমনই মধুর তার কণ্ঠস্বর।

নিজের স্কুলের মূর্তি: এ বছর সে তার নিজের স্কুলের সরস্বতী প্রতিমাও নিজেই তৈরি করছে।

ব্যক্তিগত পরিচিতি: লোকেশ ঘোষের বাবা জীবন ঘোষ দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের ঠিকা শ্রমিক এবং মা অঞ্জনাদেবী গৃহবধূ। আর পাঁচটা গ্রামের শিশুর থেকে লোকেশ একেবারেই ভিন্ন চরিত্র। শান্ত ও নিরীহ স্বভাবের লোকেশ ছোটো থেকেই হাতে কিছু না কিছু সৃষ্টি করতে ভালবাসে।

মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী: লোকেশ পড়াশোনাতেও বেশ মেধাবী। কোনো অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেই সে প্রথম হয়। তার জীবনের শখ হলো ভালো কীর্তনিয়া হওয়া। তাই সে কীর্তনের গান শেখে এবং বর্তমানে নানান মঞ্চে রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শ্রীকৃষ্ণলীলা কীর্তনের সঙ্গীত পরিবেশন করে।

মূর্তি গড়ে যে পারিশ্রমিক পায়, তা সে যত্ন করে সঞ্চয় করে। তার মনের ইচ্ছে পূরণে বাবা-মা সহ পরিবারের সকলে তাকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করেন। তার এই বিরল প্রতিভার কারণে সে স্কুল-সহ এলাকায় সকলের নয়নের মণি হয়ে উঠেছে।