ধর্মেন্দ্রের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার, দিল্লিতে স্মরণসভায় স্বামীর কবিতার বই প্রকাশের ইচ্ছের কথা জানালেন হেমা মালিনী

কিংবদন্তী অভিনেতা ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের পর দেওল পরিবারের অন্দরের টানাপড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মুম্বইয়ে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে স্মরণসভা হওয়ার পর দিল্লিতে প্রয়াত স্বামীর জন্য আলাদা করে একটি আড়ম্বরপূর্ণ স্মরণসভার আয়োজন করেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, অভিনেত্রী হেমা মালিনী। সেখানেই দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে ধর্মেন্দ্রের এক অপূর্ণ ইচ্ছের কথা প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
আবেগময় হেমা ও রাজনৈতিক উপস্থিতি: দিল্লির স্মরণসভায় অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। আবেগ সামলাতে না পেরে ছলছল চোখে মঞ্চে দাঁড়ান হেমা মালিনী। তিনি বলেন, তিনি কখনও ভাবেননি তাঁকে ধরমজির জন্য এমন একটি স্মরণসভা করতে হবে। তাঁর কাছে এই চলে যাওয়াটা আজও আকস্মিক ও অবিশ্বাস্য।
“এই একজন পুরুষের কাছেই নিজেকে সমর্পণ করেছি”: অভিনেত্রী স্মরণসভায় ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন। হেমা অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁদের ভালোবাসা ছিল নিখাদ এবং তাঁরা কখনও সমাজ বা মানুষকে ভয় পাননি। সেই বিশ্বাস থেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘‘আমি সারা জীবন এই একজন পুরুষের কাছেই নিজেকে সমর্পণ করেছি।’’ হেমার এই বক্তব্যে গোটা সভাঘর নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
শায়ের ধর্মেন্দ্রের অপূর্ণ স্বপ্ন: তবে শুধু ভালোবাসার স্মৃতি নয়, হেমার গলায় শোনা যায় গভীর আক্ষেপও। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্র ছিলেন অসাধারণ একজন শায়ের। পরিস্থিতি, সময় ও আবেগ বুঝে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি উর্দু শায়েরি বলতে পারতেন।
হেমা জানান, ধর্মেন্দ্র নিজেও তাঁর কবিতাগুলো বই আকারে প্রকাশ করার জন্য ভীষণ আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু নানা ব্যস্ততা ও সময়ের অভাবে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। অভিনেত্রী অঙ্গীকার করেন, বই প্রকাশের আগে যে কাজগুলি বাকি রয়েছে, সেই অসম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধেই রইল। তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবেন।