পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, এক্স-রেতে ধরা পড়ল ভয়ংকর ছবি! এন্ডোস্কোপিতে জীবন বাঁচালেন আরজি করের চিকিৎসকরা

অস্ত্রোপচার ছাড়াই ১৩ বছরের এক কিশোরীর পেট থেকে সফলভাবে চুল বাঁধার ক্লিপ বের করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন কীর্তি স্থাপন করলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা। অত্যাধুনিক এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতির সাহায্যে এই জটিল কাজটি সম্পন্ন করা হয়, যা চিকিৎসক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত:

কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা ওই কিশোরীর দিনকয়েক আগে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার পরও যন্ত্রণা না কমায় তাকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিভাগ প্রথমে এক্স-রে এবং এন্ডোস্কোপি করে। সেখানেই দেখা যায়, মেয়েটির পাকস্থলীতে একটি প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা চুল বাঁধার ক্লিপ আটকে আছে। ক্লিপটির সামনের দিকে পুঁতির মতো বল থাকায় সেটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। জানা যায়, ক্লিপটি শুধু পাকস্থলী নয়, তা ভেদ করে কিছুটা অগ্নাশয়েও ঢুকে গিয়েছিল, যা তীব্র যন্ত্রণার কারণ।

অস্ত্রোপচার এড়িয়ে সাফল্য:

শুরুতে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের কথা ভাবলেও পরে ঝুঁকি এড়াতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। অস্ত্রোপচার করলে রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল, যা নাবালিকার জীবনের জন্য হুমকি হতে পারত। তাই অত্যাধুনিক এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে ক্লিপটি বের করে আনার পরিকল্পনা করা হয়।

গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুজয় রায়ের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দল মুখের পথ দিয়ে ক্যামেরাযুক্ত একটি যন্ত্র পেটে প্রবেশ করিয়ে অত্যন্ত সাবধানে ক্লিপটি ধরেন এবং প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সফলভাবে বের করে আনেন। চিকিৎসকরা জানান, এমন ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও মারাত্মক রক্তপাত ঘটিয়ে প্রাণঘাতী হতে পারত।

অস্ত্রোপচারের পর কিশোরীকে দু’দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বর্তমানে সে সম্পূর্ণ সুস্থ। হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে কিছু দিন ওষুধ ও নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে বলা হয়েছে।

চিকিৎসকের সতর্কবার্তা:

অধ্যাপক সুজয় রায় এই সাফল্যকে ‘অত্যন্ত জটিল একটি কেস’ এবং ‘টিম ওয়ার্কের ফল’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “বাচ্চারা যেন কোনও ছোট জিনিস নিয়ে খেলতে খেলতে মুখে না-দেয়। এমন কিছু শ্বাসনালীতে ঢুকে গেলে কয়েক মিনিটেই প্রাণঘাতী বিপদ হতে পারে।”