বোর্ডের ফি মাত্র ২১৫, স্কুলের রশিদ কাটছে ৫০০! আলিপুরদুয়ারে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের থেকে ১০ গুণ টাকা তোলার অভিযোগ

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার চতুর্থ সেমিস্টারে নাম নথিভুক্তকরণ বা এনরোলমেন্ট ফি বাবদ শিক্ষা সংসদ যেখানে ২১০ টাকা ধার্য করেছে, সেখানে আলিপুরদুয়ারের লোকনাথপুর হাইস্কুলে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা! শুধু তাই নয়, কোনও বিষয়ে ফেল করা পড়ুয়াদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। অতিরিক্ত ফি ধার্য করার কারণে বহু পড়ুয়া এখনও পর্যন্ত নাম এনরোল করাতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী এনরোলমেন্টের জন্য ফি ২১০ টাকা। তৃতীয় সেমিস্টারে এক বা দু’টি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে প্রতি বিষয় পিছু ৫০ টাকা সাপ্লিমেন্টারি ফি দিয়ে চতুর্থ সেমিস্টারের সঙ্গে পরীক্ষায় বসার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তুরতুরির লোকনাথপুর হাইস্কুলে এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ সকল পড়ুয়ার থেকেই নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা! এমনকি এনরোলমেন্ট এবং সাপ্লিমেন্টারি মিলিয়ে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে অনেক পড়ুয়াকে প্রায় ১০ গুণ বেশি ফি দিতে হচ্ছে।
স্কুলের ক্লার্ক শৈলেন নার্যিনারি ৫০০ এবং ১০০০ টাকা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের রসিদ দিচ্ছেন। তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ীই টাকা নিচ্ছেন। যদিও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নব্যেন্দু মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তিনি স্কুলেও আসেননি বলে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আলিপুরদুয়ার জেলার সভাপতি ভাস্কর মজুমদার বলেন, “রসিদ দিয়ে ৫০০ বা ১০০০ টাকা নেওয়ার প্রমাণ যদি অভিভাবকরা আমাদের দেন, তবে আমরা নির্ধারিত জায়গায় অভিযোগ জানাব। এটা গুরুতর অভিযোগ। সংসদ ২১০ টাকা এনরোলমেন্ট ফি ধার্য করেছে, আর সাপ্লিমেন্টারির জন্য বিষয় পিছু ৫০ টাকা। অভিভাবকরা রসিদ নিয়ে অভিযোগ জানালে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য।”
অন্যদিকে, স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি বাদল সোম বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে তবেই জানাতে পারব।” বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও সেরিং শেরপাও।