সবজি বিক্রেতার ছেলে, বয়স মাত্র সতেরো! শীতবস্ত্র থেকে খাবার, অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়ছে পূর্ব মেদিনীপুরের এই ছাত্র।

এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, অথচ তার মানবিক কর্মকাণ্ড দেখলে আপনাকেও স্যালুট জানাতে হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের খাড়ান গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ রায়। চাঁদপুর হাড়োচরণ বিদ্যামন্দিরের দ্বাদশ শ্রেণীর এই ছাত্র এখন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, কিন্তু বই-খাতার বাইরেও তার জগতটা অনেক বড়—সেবা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার নেশা।

বয়স কম হলেও মানুষের কষ্ট তাকে ভিতর থেকে নাড়া দেয়। তাই সময় পেলেই ছুটে যায় অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি। শুরুতে তার উদ্যোগ ছিল খুবই ছোট। সবজি বিক্রেতা বাবার কাছ থেকে বাজারে ফিরে আসা বাড়তি সবজি নিয়ে সে এলাকার একাকী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের হাতে তুলে দিত, যাদের বাজারে যাওয়ার সামর্থ্য বা রান্না করার শক্তি নেই। শুরুতে সংশয় থাকলেও, বৃদ্ধাদের হাসিমুখ দেখে তার সাহস বাড়ে।

ধীরে ধীরে এই ছোট উদ্যোগ বড় আকার নেয়। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক এবং এলাকার এক দাদা তার কাজে মুগ্ধ হয়ে পাশে দাঁড়ান। তারপর শুরু হয় আরও বড় কাজ। শীতের সময় অসহায় মানুষদের কম্বল, শাল ও সোয়েটার কিনে দিতে সে নিজের জমানো টাকা এবং সংগৃহীত সাহায্য ব্যবহার করে। এত ছোট বয়সে এমন দায়িত্বজ্ঞান দেখে সবাই অবাক।

নিজের কাজের ছবি ও তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে শুরু করার পর দেবাশীষের এই মানবিক উদ্যোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধুরা অনেকেই এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়ান। কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ বা চাল-ডাল-সবজি দিয়ে সহযোগিতা করেন। এখন বন্ধুরা মিলে একসঙ্গেই তারা এই কাজ করে চলেছেন।

আজকের তরুণ সমাজ যখন মোবাইল আসক্তিতে ডুবে, তখন দেবাশীষ দিনরাত পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিয়ম করে চাল-ডাল-সবজি নিয়ে অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে এলাকার মানুষ—সকলেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। দেবাশীষ রায় এখন উপকূল এলাকার সাধারণ তরুণদের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে কী হবে তা সময়ই বলবে, কিন্তু তার এই মানবিক পথচলা বর্তমানে সমাজে এক নতুন বার্তা ছড়াচ্ছে।