রেকর্ড সাড়া! ‘শিল্পের সমাধানে’ কর্মসূচিতে জমা পড়ল ১.৫২ লক্ষ আবেদন, রাজ্যের MSME ক্ষেত্রে আগ্রহ তুঙ্গে

রাজ্য সরকার আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচি ‘শিল্পের সমাধানে’ সফল হয়েছে বলে জানাল ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প (MSME) এবং বস্ত্র দফতর। গত ১০ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোট ১ লক্ষ ৫২ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সাফল্য রাজ্যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকেই তুলে ধরছে বলে দাবি করেছে সরকার।
পরিসংখ্যানের খতিয়ান:
ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প এবং বস্ত্র দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২ হাজার ৫২৮টি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে ৩ লক্ষ ৮৮ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল।
কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গিয়েছে এমএসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ‘উদ্যম’ রেজিস্ট্রেশনের জন্য, যেখানে সরকারি পোর্টালে মোট ৩০,৫৩৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে তাঁত ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের নাম নথিভুক্ত করার বিষয়টি, যেখানে আবেদন জমা পড়েছে ২৮,১০৩টি। এছাড়াও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে চালু হওয়া ‘ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্পের জন্য ৪,০৭২টি আবেদন জমা পড়েছে।
নতুন প্রকল্প ও বকেয়া কাজে নজর:
চলতি বছরের মার্চ মাসে জারি হওয়া তাঁতি ও কারিগরদের জন্য মৃত্যুজনিত সুবিধা, পশ্চিমবঙ্গ হ্যান্ডলুম ও খাদি তাঁতি আর্থিক সুবিধা প্রকল্প, পশ্চিমবঙ্গ কারিগর আর্থিক সুবিধা প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড ইন্টারেস্ট সাবসিডি স্কিম—এই চারটি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
শুধুমাত্র নতুন আবেদন গ্রহণ করাই নয়, এই শিবিরগুলিতে বকেয়া কাজ এবং আইনি জট খোলার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। ঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা মেটাতে এবং ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহের জন্য ২,২২১টি ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আইনি বা সংবিধিবদ্ধ ছাড়পত্র (Statutory Clearances) ৭৪৮টি ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে।
সাতটি দফতরের সহযোগিতা:
এমএসএমই দফতরের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আরও সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা, উদ্যানপালন, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং কৃষি দফতর—এই সমস্ত দফতরগুলি ব্যাংক-লিংকড প্রকল্পগুলির সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আনন্দধারা প্রকল্পের আওতায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির লোন বা ক্রেডিট লিঙ্কেজের জন্য ৮০,৫০৪টি আবেদন জমা পড়েছে।
নভেম্বর মাসকে ‘এমএসএমই মাস’ হিসেবে উদযাপনের অঙ্গ হিসেবেই ‘শিল্পের সমাধানে’ কর্মসূচিটি গৃহীত হয়েছিল, যা রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে বলে সরকারের দাবি।