সাভারকর পুরস্কার নিতে অস্বীকার শশী থারুরের, ‘আগে থেকে জানতাম না’, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে জানালেন প্রাক্তন কূটনীতিক

বীর সাভারকরের নামাঙ্কিত পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় নিজের নাম শুনেও সেই পুরস্কার গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকার করলেন প্রাক্তন কূটনীতিক তথা কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তিনি ‘বীর সাভারকর পুরস্কার’ গ্রহণ করবেন না, এবং এই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেবেন না।
এদিকে, পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা হাইরেঞ্জ রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এইচআরডিএস) থারুরের এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে।
থারুরের বক্তব্য:
শশী থারুর সকালে সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের জানান, “গতকাল আমি এই বিষয়ে জানতে পেরেছি। আমি (অনুষ্ঠানে) যাচ্ছি না।” এরপর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন যে, তিনি পুরস্কারের নাম, কোন সংগঠন দিচ্ছে, কোন ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে—এই বিষয়ে কিছুই বিস্তারিত জানতে পারেননি। তিনি আয়োজক সংস্থার দায়িত্বজ্ঞানহীনতারও অভিযোগ তুলে বলেন, “আয়োজক সংস্থা কিছু না-জানিয়েই আমার নাম ঘোষণা করেছে… আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে রাজি কি না, তা জানার প্রয়োজনও বোধ করেনি তারা।”
কেরলে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে মঙ্গলবার তিনি এই পুরস্কারের বিষয়টি জানতে পারেন বলেও জানান। থারুর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিস্তারিত তথ্য না জানালে তিনি অনুষ্ঠানে হাজির থাকা বা এই পুরস্কার গ্রহণের প্রসঙ্গ ওঠেই না।
পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার পাল্টা দাবি:
শশী থারুরের বিবৃতি জারির পর এইচআরডিএস সংস্থার সম্পাদক অজি কৃষ্ণান একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিন্ন দাবি করেন। কৃষ্ণান জানান, কংগ্রেস নেতাকে অনেক আগে থেকেই বীর সাভারকর পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, সংস্থার প্রতিনিধিরা থারুরের বাড়িতে গিয়ে জুরির চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তাঁকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
কৃষ্ণান কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা তাঁকে (শশী থারুর) তালিকাটি দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি নিশ্চিত করে জানাননি যে, তিনি এই অনুষ্ঠানে আসবেন কি না। তিনি হয়তো কংগ্রেসকে ভয় পাচ্ছেন।” উল্লেখ্য, এই বছর প্রথম ‘বীর সাভারকর ইনটারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হচ্ছে।
কংগ্রেসের কড়া বার্তা:
কংগ্রেস নেতা কে মুরলীধরন সাংবাদিকদের কাছে এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু শশী থারুর নয়, দলের কোনও সদস্যই বীর সাভারকরের নামে পুরস্কার গ্রহণ করবেন না, কারণ সাভারকর ব্রিটিশদের কাছে মাথা নত করেছিলেন। মুরলীধরন বলেন, যদি কংগ্রেস সাংসদ এই পুরস্কার গ্রহণ করেন, তাহলে তার অর্থ হবে কংগ্রেসকে অপমানিত করা।