‘প্রমাণ হাতে’ মমতার ‘দ্বিচারিতা’ ফাঁস! ওয়াকফ বিল নিয়ে কেন্দ্রের বৈঠকে রাজ্যের আপত্তি ছিল না, বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বুধবার কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি প্রমাণ হাতে দাবি করেছেন যে, ওয়াকফ বিল নিয়ে কেন্দ্র কর্তৃক আয়োজিত স্টেকহোল্ডারদের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রতিনিধিরা কোনো রকম আপত্তি বা মতবিরোধ নথিভুক্ত করেননি।
শুভেন্দুর মূল অভিযোগ:
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ওয়াকফ আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে তীব্র বিরোধিতা করছেন এবং রাজ্যের মানুষকে উত্তেজিত করছেন, কিন্তু অন্যদিকে তাঁর সরকার ভিন্ন পথে হাঁটছে। তিনি দাবি করেন:
বৈঠকে রাজ্যের নীরবতা: কেন্দ্রীয় সরকার ওয়াকফ আইন, ২০২৫ নিয়ে আলোচনার জন্য লখনউ এবং দিল্লিতে মোট চারটি বৈঠক ডেকেছিল। এই বৈঠকগুলির মধ্যে কমপক্ষে দুটিতে পশ্চিমবঙ্গের বরিষ্ঠ আমলারা উপস্থিত ছিলেন।
আপত্তির অনুপস্থিতি: বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও, তাঁরা এই আইনটির বিরোধিতা করে কোনো রকম আপত্তি বা ভিন্নমত রেকর্ডভুক্ত করেননি। তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও তারা নীরব ছিলেন।
‘মুখে বিরোধিতা, কাজে সম্মতি’: শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখে আইনের বিরোধিতা করছেন এবং রাজ্যে অশান্তি ছড়াচ্ছেন, কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে তাঁর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে কার্যত সম্মতি জানিয়ে এসেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ওয়াকফ আইন নিয়ে ভণ্ডামি’ করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী এক ধরনের রাজনীতি করছেন, যেখানে সংখ্যালঘুদের তোষণ ও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য একদিকে তিনি আইনকে সমর্থন না করার কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে তাঁর প্রশাসনের প্রতিনিধিরা নীরবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন।