CIC নিয়োগে রাহুল গান্ধীর ‘লিখিত বিরোধিতা’! অমিত শাহকে পাশে নিয়ে মোদীর সঙ্গে এতক্ষণ কী হল?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে আজ সংসদ ভবনের করিডরে অনুষ্ঠিত ৮৮ মিনিটের এক অস্বাভাবিক দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে। প্রধান তথ্য কমিশনার (CIC) সহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলিতে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা করাই ছিল বৈঠকের মূল এজেন্ডা, তবে এত লম্বা সময় ধরে এই বৈঠক চলবে, তা কেউই আশা করেননি।
নিয়ম অনুযায়ী, তথ্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও ভিজিল্যান্স কমিশনের প্রধানদের নিয়োগের সুপারিশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সিলেকশন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মনোনীত এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী (আজ উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ) এবং বিরোধী দলনেতা (রাহুল গান্ধী) থাকেন।
৮৮ মিনিটের দীর্ঘ জল্পনা:
জানা গিয়েছে, রাহুল গান্ধী আজ দুপুর ১টা ০৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান এবং বৈঠক চলে টানা ৮৮ মিনিট। সূত্রের খবর, বৈঠকে শুধু প্রধান তথ্য কমিশনার নিয়োগ নয়, একসঙ্গে আটজন তথ্য কমিশনার এবং একজন ভিজিল্যান্স কমিশনার নিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সূত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী বৈঠকে প্রস্তাবিত সব নিয়োগেরই লিখিতভাবে বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর আপত্তির কারণ নথিভুক্ত করে জমা দিয়েছেন। এর আগে মল্লিকার্জুন খাড়্গের মতো বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা এ ধরনের বৈঠকে আপত্তি জানালেও, এবারের দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে সংসদে গুঞ্জন ছিল আরও তীব্র—এতক্ষণ ধরে কী এমন আলোচনা চলল?
তথ্য কমিশনে শূন্য পদ ও অমীমাংসিত মামলা:
গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনে (CIC) প্রধান তথ্য কমিশনার সহ মোট আটটি পদ খালি রয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর হীরালাল সামারিয়ার অবসরের পর থেকে CIC-এর পদটি শূন্য। বর্তমানে মাত্র দুই তথ্য কমিশনার আনন্দী রামালিঙ্গম ও বিনোদ কুমার তিওয়ারি আরটিআই-সংক্রান্ত অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির কাজ সামলাচ্ছেন। বর্তমানে CIC-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০,৮৩৮টি মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলনেতার ৮৮ মিনিটের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে সাসপেন্স বাড়াল।