‘চলুন মিস্টার শাহ, ডিবেট হোক!’—লোকসভায় রাহুলের চ্যালেঞ্জ,’পাল্টা ফুঁসে উঠলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বুধবার SIR (Special Intensive Revision) ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় ভাষণ দিতে উঠতেই অধিবেশন চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বনাম বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত বাগযুদ্ধ।

রাহুল গান্ধীর হরিয়ানা নির্বাচন নিয়ে তোলা ‘ভোট চুরির’ অভিযোগের জবাব দিচ্ছিলেন শাহ। ঠিক সেই সময়েই উঠে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।

🗣️ শাহকে চ্যালেঞ্জ রাহুলের, কড়া জবাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘চলুন মিস্টার অমিত শাহ, আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি। আমার প্রেস কনফারেন্সের উপর একটি ডিবেট করুন।’

জবাবে ফুঁসে ওঠেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি কোন ক্রমে সংসদে ভাষণ দেব তা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে না। একমাত্র আমি ঠিক করব।’ অর্থাৎ, তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর কখন দেবেন, সেই ক্রমতালিকা একমাত্র তিনিই নির্ধারণ করবেন।

যখন শাহ বিরোধীদের কটাক্ষ করে SIR-কে ‘সুবিধাবাদী’ তকমা দেন— “যখন আপনারা জেতেন, নতুন পোশাক পরে শপথ নেন, তখন SIR খুব ভাল তাই তো? কিন্তু বিহারের মতো মুখ থুবড়ে পড়লেই ভোটার তালিকা নিয়ে সমস্যা বের করেন। এই দ্বিচারিতা আর চলবে না।”— তখন রাহুল গান্ধী তাঁকে থামিয়ে জানতে চান, “আগে জবাব দিন নির্বাচন কমিশনারকে কেন ইমিউনিটি দেওয়া হচ্ছে?”

শাহ কড়া জবাবে বলেন, “আমি ৩০ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসছি। নিয়ম আমারও জানা আছে। আপনার কথামতো সংসদ চলবে না। এখানে আমি কতক্ষণ ভাষণ দেব তা আমিই ঠিক করব।”

📜 ‘ইতিহাস’ টেনে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করলেন শাহ

পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ভোট চুরির ‘ইতিহাস’ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একটা নয়া ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। কেউ ইতিহাস শুনতে চায় না। কিন্তু ইতিহাস এটাই বলছে:’

  • প্রথম ভোট চুরি (নেহরু যুগ): ‘দেশে প্রথম ভোটার তালিকা সংশোধন হয় ১৯৫২ সালে জওহরলাল নেহরুর সময়ে। দেশে প্রথম ভোট চুরি হয়েছিল যখন সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল ২৮টি ভোটের সমর্থন পেয়েছিলেন এবং নেহরুজি পেয়েছিলেন ২টি ভোট। তারপরও দেখা যায় নেহরুজি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন।’

  • দ্বিতীয় ভোট চুরি (ইন্দিরা যুগ): ‘দ্বিতীয়বার ভোট চুরি হয় ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে। আদালত রায় দেওয়ার পরও তিনি ভোটে দাঁড়ানোর জন্য নিজের ক্ষেত্রেই ইমিউনিটি সিস্টেম অনুমোদন করে দিয়েছিলেন।’

🤯 সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

তৃতীয় ভোট চুরির প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ সরাসরি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ভোট চুরি নিয়ে বিতর্ক সবেমাত্র দিল্লিতে সিভিল কোর্টে পৌঁছেছে। কীভাবে সনিয়া গান্ধী ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই তাঁর নাম ভোটার লিস্টে উঠে গেল তা নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে।’

🏃 ‘অনুপ্রবেশকারীদের নাম নিতেই পালিয়ে গেল!’

অমিত শাহের ভাষণের সময়ে একাধিকবার প্রতিরোধ করেন রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী বেঞ্চ। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা এতটাই তীব্র হয় যে বিরোধী সাংসদরা ওয়াকআউট করেন।

এই ওয়াকআউট নিয়ে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘নেহরুজি, ঠাকুমা ইন্দিরাজি, মা সোনিয়াজির বিষয় নিয়ে এত কথা বললাম তথন এঁরা ওয়াকআউট করলেন না। কিন্তু যখনই আমি অনুপ্রবেশকারীদের দেশছাড়া করার কথা বলছি তখন এঁরা পালিয়ে গেল। এত ভয় কীসের?’