ঐতিহাসিক স্বীকৃতি! কলকাতার দুর্গাপূজার পর এবার ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় যুক্ত হলো আলোর উৎসব দীপাবলি

ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজার পর এবার ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ (Intangible Cultural Heritage) তালিকায় নতুন সংযোজন হলো আলোর উৎসব দীপাবলি। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভর জয় কামনায় উদযাপিত এই উৎসব এবার বিশ্ব দরবারে স্থান পেল।
বুধবার কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সুসংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। নয়াদিল্লির লাল কেল্লায় ইউনেস্কোর চলমান ২০তম আন্তঃ সরকার কমিটির বৈঠক থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই সংস্থা দীপাবলিকে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পরেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিবৃতি জারি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
গত ৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে মোট ৭৮টি দেশের মনোনয়ন থেকে ভারতের দীপাবলিকে বেছে নেওয়া হয়, যা ভারতের আয়োজক দেশ হিসেবে এক বিরাট সাফল্য। এই স্বীকৃতির পর লাল কেল্লার প্রধান মঞ্চে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক শিল্পীরা নৃত্য-গীত পরিবেশন করেন এবং বড় পর্দায় দীপাবলির উৎসবের ছবি ফুটে ওঠে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শেখাওয়াত বলেন, “প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য দীপাবলি অত্যন্ত আবেগের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই উৎসব চলতেই আছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “ভারত এবং বিশ্বের মানুষ এই ঘোষণায় রোমাঞ্চিত। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে দীপাবলি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। আমাদের সভ্যতার আত্মা। অনন্তের পথে প্রভু শ্রী রামের আদর্শ আমাদের পথ দেখাক।”
এই স্বীকৃতির পর রাজধানী দিল্লিতে এক অকাল দীপাবলি উদযাপনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, সরকারি দপ্তর থেকে রাস্তাঘাট পর্যন্ত সর্বত্র আলোকসজ্জার মাধ্যমে দীপাবলি উদযাপন করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে কুম্ভ মেলা, গুজরাটের গরবা নাচ, যোগা এবং রামলীলাও ইউনেস্কোর এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।